দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নিতে আফগানিস্তানে ৩ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্রমবর্ধমান দখলদারিত্বের মুখে কাবুলে মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী সরাতে সহযোগিতার জন্য আফগানিস্তানে সাময়িকভাবে তিন হাজার সেনা পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাবুলের বিমানবন্দরে প্রথম সেনা মোতায়েন হবে।
এ ছাড়াও, পরিস্থিতির অবনতি হলে উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে এই অঞ্চলে মোতায়েনের জন্য আরও প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গতকাল আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন কথা বলেছেন। তালেবানদের সহিংসতার মুখে যুক্তরাষ্ট্র 'আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে' এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাবুলে মার্কিন বেসামরিক কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে যেসব আফগান যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে তাদের জন্যে বিশেষ অভিবাসন ভিসা ফ্লাইটের ব্যবস্থাও তরান্বিত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওয়াশিংটন আফগান সরকারের সঙ্গে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ও নিরাপত্তার সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং 'পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানে সমর্থন দিতেও যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারাবদ্ধ।'
মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তালেবান কাবুলকে অন্যান্য প্রদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী শহরটি দখল করে নিতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, 'দূতাবাসের কর্মীদের কিভাবে নিরাপদে রাখা যায় তা নির্ধারণ করতে আমরা প্রতিদিন সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি।'
'দূতাবাস বন্ধ হবে না' উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'আশা করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেখানকার কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে নেওয়া হবে। সেখানে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকরা থাকবেন।'
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একজন বলেন, 'দূতাবাস যে খোলা থাকবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।'