আফগানিস্তানে পপি চাষ নিষিদ্ধ করল তালেবান

স্টার অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আফিম উৎপাদনকারী দেশ আফগানিস্তানে মাদক চাষে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। আজ রোববার রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার একটি আদেশ অনুসারে আফগানিস্তানে পপি চাষ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কাবুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, যদি কেউ এই আদেশ লঙ্ঘন করে তাহলে তার ফসল অবিলম্বে ধ্বংস করা হবে এবং লঙ্ঘনকারীকে শরিয়া আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।

আদেশে বলা হয়েছে, অন্যান্য মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, ব্যবহার বা পরিবহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে মাদক নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি প্রধান দাবি। গত আগস্টে আফগানিস্তান দখল করে তালেবানরা। এরপর ব্যাংকিং, ব্যবসা ও উন্নয়ন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাই এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০০ সালে তালেবানরা তাদের শেষ শাসনামলের শেষের দিকে পপি চাষ নিষিদ্ধ করেছিল। কারণ তারা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছিল। কিন্তু, সমালোচনার কারণে তারা তাদের বেশিরভাগ অবস্থান পরিবর্তন করেছিল।

আফগান কৃষক ও তালেবান সদস্যরা রয়টার্সকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের আফিম উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালে জাতিসংঘ অনুমান করেছিল আফগানিস্তানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আফিম উৎপাদন হয়।

দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের অধিবাসীদের অবৈধ ফসল উৎপাদনে প্ররোচিত করেছে। কারণ, সেখানে গমের মতো বৈধ ফসলের চেয়ে আফিম উৎপাদন বেশি লাভজনক।

তালেবান সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, পপি নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দলটির মধ্যে কিছু অংশ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পপি চাষ করা কৃষকের সংখ্যা বেড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হেলমান্দের এক কৃষক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তালেবানরা এর চাষ নিষিদ্ধ করবে এমন গুজবে পপির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। আমার পরিবারের খরজ যোগাতে পপি চাষ করা দরকার। কারণ, অন্যান্য ফসল লাভজনক নয়।