অনাস্থা ভোটের আগে ইসলামাবাদে ইমরান খানের ‘ঐতিহাসিক’ সমাবেশ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান 'ঐতিহাসিক' সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। আজ রোববার ইসলামাবাদের প্যারেড গ্রাউন্ডে এই সমাবেশে 'পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে' বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।

এই সমাবেশকে ইমরানের দলের সামর্থ্যের প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলো গত ৮ মার্চ ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সেদিনই ইসলামাবাদে লংমার্চ করে। এই অনাস্থা প্রস্তাব থেকে পাকিস্তানে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়েছে।

আলজাজিরা জানায়, আগামীকাল সোমবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। ৭ দিন আলোচনার পর পার্লামেন্ট সদস্যরা প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেবেন।

বিরোধী দলগুলো বলছে, ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটানোর ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী। ক্ষমতাসীন তেহরিক-ই-ইনসাফের অনেক এমপি ইমরান খানের পক্ষত্যাগ করেছেন।

পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, অনাস্থা ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে সংকট রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ততই ঘনীভূত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের অন্তত ৫০ জন মন্ত্রীর কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে ইমরান খান আজ টুইটারে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে অডিও বার্তায় বলেছেন, এই সমাবেশ শুধু পিটিআই-এর লড়াই নয়। এই লড়াই সারা দেশের জন্য। এই লড়াই পাকিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য।

সমাবেশে আসার পথে বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে তিনি তার সমর্থকদের আগেভাগেই সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে বলেন।

পাকিস্তানের ৩৪২ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টে উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাব পাসের জন্য প্রয়োজন ১৭২ ভোটের। এর মধ্যে তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের আসন সংখ্যা ১৫৫। জোটের শরিকদের সমর্থন নিয়ে ইমরান খানের সরকার টিকে আছে।

অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের মুসলিম লিগসহ পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলোর মোট আসন সংখ্যা হচ্ছে ১৬৩।

পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকারকে অনাস্থা প্রস্তাব পাবার ১৪ দিনের মধ্যে অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। এই ১৪ দিনের সময়সীমা শেষ হয় গত ২২ মার্চ। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ওআইসির সম্মেলনের কারণে এ তারিখ কয়েকদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের শক্তিধর সামরিক বাহিনীর সুসম্পর্কে চিড় ধরেছে। এ কারণেই দলটিকে পার্লামেন্টে এখন অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।