এইচএসসি

জামালপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর

জামালপুরে এইচএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে প্রায় ১০০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

এর জেরে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে এবং সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ শওকত আলম মীরকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার সকালে বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম মিন্টু।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে এবং অধ্যক্ষ শওকত আলম মীরকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

তবে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীদের পাশে আছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ভুলবশত সংরক্ষিত (রিজার্ভ) প্রশ্নপত্র বিতরণ করেছে। এর দায় সম্পূর্ণ তাদের।’

শনিবার সরকারি আহম্মদ মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ওই কক্ষে পরীক্ষা দেওয়া সব পরীক্ষার্থীই ছিলেন সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী।

পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, তারা ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাসভিত্তিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। এরপর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ শওকত আলম মীর বলেন, প্রশ্নপত্র ২০ কপি করে সিলগালা প্যাকেটে কেন্দ্রে আসে। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য পাঁচটি প্যাকেট খোলা হয়েছিল। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র।

তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে প্যাকেট খুলে ভেতরের প্রশ্নপত্র যাচাই করার সুযোগ ছিল না। কারণ, পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত প্যাকেটগুলো সিলগালা অবস্থায় ছিল।

অধ্যক্ষের ভাষ্য, ওই প্রশ্নপত্রগুলো মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।

ঘটনার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়। বোর্ডের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠানো হয়েছে।

বোর্ড জানিয়েছে, উত্তরপত্রগুলো পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী নমনীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

পরীক্ষার্থী তিলা জামালি বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে বুঝতে পারি প্রশ্নপত্রে স্পষ্টভাবে ২০২৫ সালের সিলেবাস লেখা ছিল। এটা আমাদের প্রশ্নপত্র ছিল না। দুই বছর ধরে এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এই ভুলে আমার জিপিএ-৫ নষ্ট হবে না—এর নিশ্চয়তা কে দেবে?’

আরেক পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘সারা দেশের শিক্ষার্থীরা একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলেও আমাদের দেওয়া হয়েছে ভিন্ন প্রশ্নপত্র। এখন আমরা পাস করা ও জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ৬৯ জন অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি ৯ শতাধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেন।