একাদশে ভর্তি প্রচলিত পদ্ধতিতে, আসন প্রায় ২৫ লাখ
একাদশ শ্রেণিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রচলিত বিধান—জিপিএ স্কোর ও শিক্ষার্থীর চাহিদার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ হবে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ভর্তি কার্যক্রমের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ভর্তি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাস শুরু হবে। কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে সেটা আজই জানানো হবে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন।
আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ২০২৬ সালে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা ২০২৫ সালের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক শূন্য থাকবে। মোট আসন সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ।
এবছর সব বোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কম।
তিনি বলেন, গত বছর এর মধ্যে পূরণ হয়েছিল ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ আসন, শূন্য ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার আরেকটু কমেছে, সে ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা আরেকটু বেশি শূন্য থাকবে।
বোর্ডভিত্তিক বিশ্লেষণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল খারাপ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব বোর্ডের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখেছি, আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি তখন থেকে শুরু এখন পর্যন্ত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ফেলে হার বেশি থাকে এবং পাসের হারকে কমিয়ে দেয়।’
পরীক্ষার ফলাফল ভালো হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যে শিক্ষার্থী যতটুকু পড়েছে, সে ততটুকু নম্বর পেয়েছে। মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।
বন্যা ও অন্যান্য কারণে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় ভালো করার কথা থাকলেও অনেক সময় খারাপ করে ফেলে। আইন অনুযায়ী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। আমরা আইন সংশোধন করেছি। যেসব শিক্ষার্থী তাদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবে, তাদের সম্পূর্ণ খাতা পুনঃপরীক্ষণ করা হবে এবং কোথাও যদি কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে সে ব্যাপারে পুনরায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বছর ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শূন্য শতাংশ পাস করে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিজ্ঞতা আমার আছে এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা কাজ করব। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যখন নকলবিহীন পরীক্ষা সুন্দরভাবে হয়েছিল, তখন শূন্য পাস করার সংখ্যা এর চার-পাঁচ গুণ বেশি ছিল। সেটা ক্রমান্বয়ে কমে এসেছে। সেই ব্যবস্থা আমরা অতীতেও নিয়েছি, বর্তমানেও নেব। আপনারা দেখতে পাবেন সেগুলো আস্তে আস্তে ভালো করছে।
মিলন আরও জানান, আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হবে। ক্রমান্বয়ে পরীক্ষা এগিয়ে আসবে।