ছাত্রত্ব শেষ হলেও হলে থাকতে পারবেন জাকসু নেতারা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে হল সংক্রান্ত আবাসিক নীতিমালা থেকে।
এতে ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলেও পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত জাকসু ও হল সংসদের নেতারা হলে অবস্থান করতে পারবেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমানের গতকাল বুধবার রাতে সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
তবে, এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জাকসু প্রতিনিধিদের একাংশ এবং কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা। নতুন এ সিদ্ধান্তকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিমালার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ পদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আবাসিক হলে থাকার অনুমতি পাবেন।
অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্টস ডিসিপ্লিন অর্ডিন্যান্স-২০১৮’-এর ধারা অনুযায়ী, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে আবাসিক হল ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের তথ্য অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী চার বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্স সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ ছয় বছর এবং এক বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সময় পেয়ে থাকেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ করতে ব্যর্থ হলে তারা নিয়মিত ছাত্রত্ব হারান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু নেতারা জানিয়েছেন, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আবাসিক হলে থাকার অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব বা লিখিত আবেদন দেওয়া হয়নি।
জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও গত কয়েক মাস ধরে তিনি হলে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর গত জুনে হল ত্যাগ করেন জাকসুর জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম।
জিতুর হলে অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনার মধ্যেই নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল প্রশাসন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী জিতু জাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্রত্ব ধরে রাখতে স্নাতকোত্তরের একটি কোর্স ইচ্ছা করে শেষ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী ব্যাচের (৪৮তম) সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তাকে। তবে ওই ব্যাচ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা সম্পন্ন করলেও জিতু পরীক্ষায় অংশ নেননি। এতে তার ছাত্রত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
নতুন বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জাকসু জিএস মাজহারুল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গঠনতন্ত্র সংশোধন না করে জারি করা নতুন আদেশ জাকসুর মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি মূলত হলে অবৈধ অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার একটি উপায়।'
জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর আবাসিক হল খালি করা উচিত।
ছাত্রদল জাবি শাখার নেতারাও এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। সংগঠনটির জাবি আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জাকসু নেতারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে তারা প্রশাসনের কাছে এমন কোনো সুবিধা চাননি। অথচ ছাত্রদলের যে নেতাকর্মীদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছিল, তাদের জিনিসপত্র হল থেকে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেও জবাব দেননি।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সম্প্রতি এক প্রশাসনিক সভায় এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্য জাকসুর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত আবেদন দেওয়া হয়নি।'