ভেরিফিকেশন ফি’র গ্যাঁড়াকলে আটকে গেল ঢাবি শিক্ষার্থীর বিদেশে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন

মাহাথির মোহাম্মদ

সুইডেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ভেঙে গেছে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে।

ওই শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ঘাটতি না থাকলেও ঢাবির আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নথিপত্র তুলতে দেরি ও হঠাৎ ‘ভেরিফিকেশন ফি’ চাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাবির খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী জিনিয়া তাসনিমের অভিযোগ, সুইডেনের ভর্তি কর্তৃপক্ষ একাডেমিক নথিপত্র যাচাই (ভেরিফিকেশন) করতে চাইলে ঢাবি কর্তৃপক্ষ ভেরিফিকেশন ফি চায়, কিন্তু সুইডেনের কর্তৃপক্ষ তা দিতে রাজি হয়নি।

এ কারণে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার আবেদন শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যাত হয়।

জিনিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ফলাফল প্রকাশের আগে পোর্টালে লগ-ইন করে দেখি আমার স্ট্যাটাস "আনকোয়ালিফায়েড" দেখাচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে আমার ক্রেডিট ১৮০ ইসিটিএসের কম। অথচ আমাদের সিলেবাস অনুযায়ী আমার ডিগ্রির মান প্রায় ২৪০ ইসিটিএস।'

'বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য সুইডিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার তথ্য যাচাইয়ের জন্য অর্থ দাবি করেছে। কিন্তু "ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশনস ইন সুইডেন" ভেরিফিকেশনের জন্য কোনো অর্থ প্রদান করে না। এ কারণে আমার আবেদন অসম্পূর্ণ থেকে যায়,' বলেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নথিপত্র যাচাইয়ের নির্ধারিত ফি আগে থেকেই চালু আছে। সুইডিশ কর্তৃপক্ষকে কীভাবে এই ফি'র কথা জানানো হয়েছে, তা আমাকে দেখতে হবে।'

জিনিয়ার এই ভোগান্তি শুরু হয় আরও কয়েক সপ্তাহ আগে। তখন তিনি নথিপত্র সংগ্রহ ও সত্যায়ন করতে যান।

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর তিনি ২ হাজার ৮০০ টাকা ‘জরুরি ফি’ দিয়ে ট্রান্সক্রিপ্টের আবেদন করেন। সাত দিনের মধ্যে ট্রান্সক্রিপ্ট দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি পাননি।

জিনিয়া বলেন, 'টানা ৩-৪ দিন আমি ৩১০ নম্বর কক্ষের সামনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে ছিলাম। তারা আমাকে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে পাঠায়। একপর্যায়ে ফাইলের স্তূপ থেকে আমাকেই নিজের নথিপত্র খুঁজে বের করতে হয়েছে।'

তিনি আরও জানান, প্রতি পৃষ্ঠা ও খাম সত্যায়নের জন্য অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে ফি দেওয়ার পরও তাকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। চাকরি থেকে তাকে বারবার ছুটি নিতে হয়েছে। দীর্ঘ বাকবিতণ্ডা ও চাপের মুখে প্রায় দুই সপ্তাহ পর তিনি সই করা নথিপত্র হাতে পান।

এত ঝক্কি সামলে কুরিয়ারের মাধ্যমে সুইডেনে নথিপত্র পাঠানো এবং অনলাইন ইন্টারভিউ দেওয়ার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। জিনিয়া বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে আগে ভেরিফিকেশন ফি-র বিষয়ে জানায়নি। শেষ পর্যন্ত সিস্টেমের ত্রুটির কারণে আমার সব চেষ্টা বৃথা গেল।'

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি এবং রেজিস্ট্রারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।'

'আমি পুরো প্রক্রিয়াটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছি। কিছু ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ থাকলেও আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও যুক্তিসঙ্গত করার চেষ্টা করছি,' বলেন তিনি।