ঢাবিতে মাতৃভাষা দিবসে পথনাটক ‘ভাষার ক্ষুধা’
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে পথনাটক ‘ভাষার ক্ষুধা’।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের উদ্যোগে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। এর রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড়।
প্রদর্শনীর শুরুতে কালো পোশাক পরা অভিনয়শিল্পীরা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে একটি মিছিল নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করেন। ‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কর রে লোপাট’—কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী এই কবিতার ছন্দে বিভিন্ন আঙ্গিকের সংমিশ্রণে ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ফুটিয়ে তোলা হয়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের পাশাপাশি এই সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং বর্তমান প্রজন্মের বাংলা ভাষার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নাটকটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রদর্শনী শেষে নির্দেশক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, রাষ্ট্রীয় শক্তি ভাষাকে ততক্ষণই ভালোবাসে যতক্ষণ তা নীরব থাকে। ভাষা যখন প্রশ্ন করতে শুরু করে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখনই তাকে দমন করার চেষ্টা করা হয়। আমাদের নাটকের শুরুটা ঠিক সেখান থেকেই।
নাটকটির সহনির্দেশক নুসরাত জাহান সাদিয়া বলেন, বাংলা ভাষা যে কতটা সুন্দর, তা আমরা এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। যেদিন আমরা সত্যিকারের অর্থে বুঝতে পারব যে আমাদের ভাষার লড়াইয়ের কারণেই আজ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে, সেদিন থেকে আমরা আর নিজের ভাষাকে ছোট করে দেখব না।
জগন্নাথ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক কথক বিশ্বাস নাটকটি দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নাট্যচর্চায় এক ধরনের খরা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে একুশে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রিক এই আয়োজন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব এই উদ্যোগ আগামীর বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, যা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।