হৃদয়-শামীম-পারভেজের ঝড়ে রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে জিতল বাংলাদেশ
সামনে ১৮২ রান তাড়া করার কঠিন চ্যালেঞ্জ। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষের এত বড় পুঁজির পেছনে ছুটে আগে কখনও সফল হয়নি বাংলাদেশ। একাদশ ওভারে ৭৭ রানে যখন ৩ উইকেট পড়ে গেল, তখন উঁকি দিচ্ছিল বেজায় শঙ্কা। তবে জেঁকে বসা চাপ দূরে সরিয়ে জ্বলে উঠলেন তাওহিদ হৃদয়। তার পাশাপাশি ঝড় তুললেন পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন। তাদের ব্যাটে চড়ে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল টাইগাররা।
সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটের অসাধারণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে তারা। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেটে ১৮২ রানের জবাবে ১৮ ওভারেই ৪ উইকেটে ১৮৩ রান তুলে লক্ষ্যে পৌঁছায় লিটন দাসের দল।
এক পর্যায়ে, বাংলাদেশের চাহিদা ছিল ৫৯ বলে ১০৬ রানের। অর্থাৎ প্রতি ওভারেই বাউন্ডারির প্রয়োজন দাঁড়ায়। ফিফটি হাঁকানো হৃদয়ের সঙ্গে পারভেজ ও শামীমের নৈপুণ্যে ১২ বল হাতে রেখেই সমীকরণ মিলিয়ে ফেল স্বাগতিকরা।
পাঁচে নামা হৃদয় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে ২৭ বলে অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে। তার ব্যাট থেকে আসে দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। তার সঙ্গে ২৮ বলে ৫৭ রানের চতুর্থ জুটিতে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরানো পারভেজ একটি চার ও দুটি ছক্কায় খেলেন ১৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস। সাতে নামা শামীম মাঠ ছাড়েন ৩১ রানে অপরাজিত থেকে। মাত্র ১৩ বল মোকাবিলায় তিনি হাঁকান তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। হৃদয়ের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ২১ বলে ৪৯ রান।
এই সংস্করণে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে। এই মাঠেই আয়ারল্যান্ডের ১৭০ রানের সংগ্রহ ছাপিয়ে ৪ উইকেটে জিতেছিল তারা।
টাইগারদের শুরুটা অবশ্য প্রত্যাশিত ছিল না। ওপেনার সাইফ হাসান হাত খুলতে পারেননি। আউট হন ১৬ বলে ১৭ রানে। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ছিলেন একেবারে খোলসে বন্দি। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ক্যাচ তুলে বেঁচে যাওয়ার পরও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। তার দুর্দশা থামে ২৫ বলে ২০ রানে। মাঝে অধিনায়ক লিটন বিদায় নেন থিতু হয়ে। ১৫ বলে ২১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
অনুমিতভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ২৫ বছর বয়সী হৃদয়। ক্যারিয়ারের ৫৮তম টি-টোয়েন্টির ৫২তম ইনিংসে ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভার যেভাবে শুরু করেছিলেন, তাতে ২০০ ছাড়ানোর আভাস দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তবে মাঝের ওভারগুলোতে তাদের রাশ টেনে ধরেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তবু শেষ পর্যন্ত কিউইরা চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসনের কল্যাণে।
ক্লার্ক ৩৭ বলে ৫১, ক্লেভার ২৮ বলে ৫১, কেলি ২৭ বলে ৩৯ ও ক্লার্কসন ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান করেন। রিশাদ ৩২ রান খরচায় শিকার করেন ২ উইকেট। প্রথমবার মূল জাতীয় দলের জার্সিতে নামা পেসার রিপন মন্ডল ৩৯ রান দিয়ে থাকেন উইকেটশূন্য।