আবাহনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আহ্বান আমিনুলের
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শনিবার ধানমন্ডিতে আবাহনী ক্লাব পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার বিষয়ে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পরপরই একদল দুর্বৃত্ত আবাহনী ক্লাবে ভাঙচুর চালিয়ে ট্রফি লুট করার পর এই প্রথম বাংলাদেশ সরকারের কোনো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ক্লাবটি পরিদর্শন করলেন।
এরপর থেকেই আবাহনী তাদের ক্রীড়া কার্যক্রম, বিশেষ করে ফুটবল বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ, দলটির মূল আর্থিক জোগানদাতা বেশ কয়েকজন পরিচালক বর্তমানে অনুপস্থিত রয়েছেন।
আবাহনীর পরিচালক তানভীর মাজহারুল ইসলাম তান্না, অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, শেখ বশির আহমেদ ও ফাহিম সিনহার সাথে সাক্ষাতের পর আমিনুল বলেন, 'স্বাধীনতার পর থেকে আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের ফুটবলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর ঐতিহ্যের প্রতীক। এই ক্লাবগুলো হারিয়ে গেলে ফুটবলাররাও হারিয়ে যাবে। গত ১৭ বছরে কী হয়েছে তা নিয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না।'
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর-ইন-চার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল।
জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক ও আবাহনী ক্লাবের সমর্থক আমিনুল আরও বলেন, 'বর্তমান সরকার সেই অতীতের পথে হাঁটতে চায় না। বরং, সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় যেখানে ক্লাবগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।'
মাঠের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান আমিনুল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনের সময় মোহামেডানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ফুটবল, ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলাধুলায় অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে আবাহনীর কর্মকর্তাদেরকে তাদের ম্যানেজমেন্ট নতুন করে ঢেলে সাজানোর আহ্বানও জানান আমিনুল।
রাজনৈতিক তকমা লেগে যাওয়ার ভয়ে বেশ কয়েকজন পরিচালক ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠান তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় গত দুই মৌসুমে আবাহনীর আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ক্লাবের একটি সূত্র অনুযায়ী, স্পন্সর ও পরিচালকদের গায়ে যেন কোনো রাজনৈতিক দলের তকমা লাগিয়ে দেওয়া না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে আবাহনীর কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে, আমিনুলকে '১' (এক) নম্বর লেখা আবাহনীর একটি জার্সি উপহার দেওয়া হয় এবং দলটির বর্তমান ফুটবলাররা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান।