হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছে কত জাহাজ
পারস্য উপসাগরের দুবাই উপকূলের কাছে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১৯ মিনিটে ‘সোর্স ব্লেসিং’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও সব নাবিকই ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।
ইরানে যুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পর সব কার্যক্রম বন্ধ করে জাহাজটি নোঙর করে অপেক্ষা করছিলেন নাবিকরা। হামলার পর এটা স্পষ্ট— সংকীর্ণ এই জলপথের কাছে অবস্থান করাটাও ঝুঁকিপূর্ণ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশে অন্তত ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। আর এ দুই সপ্তাহে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে প্রায় ১১০টি তেলবাহী ট্যাংকারসহ হাজারের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ। প্রত্যেকটি জাহাজই নিরাপদ পথের অপেক্ষা করছে।
সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ও ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরে অবস্থান করা ট্যাংকার ও জাহাজগুলো এখন সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নিরাপদে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই।

এ বিষয়ে বিশ্ব শিপিং কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী জো ক্রামেক টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘নাবিকরা এই সংঘাতের অংশ নয়, কিন্তু তারা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।’
শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ রাইট এ পরিস্থিতিকে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’র মতো কঠিন বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি উপসাগরে থাকা অবস্থাও বিপজ্জনক।
তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু কোম্পানি ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে গ্রিক বিলিয়নিয়ার জর্জ প্রকোপিউর মালিকানাধীন শিপিং কোম্পানি ‘ডায়না কম’ চলতি মাসের শুরুতে তাদের অন্তত পাঁচটি ট্যাংকারকে এ প্রণালি পার করিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্যাংকার মালিকদের ঝুঁকি নিয়ে উপসাগর ছাড়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। তবে শিপিং খাতের অনেকেই নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ছাড়া এ পথ দিয়ে যাত্রা করতে আগ্রহী নয়।
টেলিগ্রাফ জানায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখন প্রায় ৯৭ শতাংশ কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এ মাসের শেষ দিকে নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় জাহাজ চলাচল শুরুর প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্যাংকার পরিচালনাকারীরা এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালিসহ ওমান ও পারস্য—দুই উপসাগরেই বিভিন্ন স্থানে জাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম ইরান।
শিপিং কোম্পানি স্টেনা বাল্কের প্রধান নির্বাহী এরিক হোনেল ফিনান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পারবে—এমনটা তিনি মনে করেন না। তার কোম্পানির একটি মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাংকার গত ১ মার্চ বাহরাইনের বন্দরে হামলার শিকার হয়।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো হলে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি শুধু মাইন থাকার গুজবেই অনেক শিপিং কোম্পানি প্রণালিতে প্রবেশ করতে ভয় পাবে।