সাতক্ষীরায় ৭৯২ জনকে সাংবাদিক কার্ড দেওয়া নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ৭৯২ জনকে সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, কার্ড বিতরণে শুরুতে কঠোর নিয়ম মানার কথা বলা হলেও বাস্তবে এর তোয়াক্কা করা হয়নি। কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ছাড়াও ব্যবসায়ী এবং নামসর্বস্ব পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। স্থানীয় দুটি পত্রিকার নামেই দুই শতাধিক ব্যক্তিকে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার সাতক্ষীরায় সাংবাদিক পরিচয়পত্রের জন্য ১ হাজার ২০০ জন আবেদন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৯২ জনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কার্ডপ্রাপ্তদের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। ওই তালিকায় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তির নাম আসায় বিতর্ক তৈরি হয়।

বিতর্কের মুখে ইতিমধ্যে একজনের কার্ড বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয়রা বলছেন, সাতক্ষীরায় ভোটকেন্দ্রের চেয়েও সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি। সারা বছর স্থানীয় গণমাধ্যমে জনদুর্ভোগের খবর তেমন দেখা না গেলেও নির্বাচন এলেই সাংবাদিকের ভিড় বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা আখতারের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল বলেন, ‘কাগজপত্র দেখেই কার্ড দেওয়া হয়েছে। এরপরও যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজনে কার্ড বাতিল করা হবে।’

একটি পত্রিকা থেকে সর্বোচ্চ কতজনকে কার্ড দেওয়া যাবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো নির্দেশনা নেই। যারা কাগজপত্র জমা দেবেন, তাদেরই দেওয়া যাবে।’

সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৬০৯টি। সেখানে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ৭৯২টি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি দুটি স্থানীয় পত্রিকা থেকেই প্রায় ২০০ জনকে দেওয়া হয়েছে এই কার্ড। বিপুলসংখ্যক এই কার্ড দেওয়াটাও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের কার্ড দেওয়ায় সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন বলেন, প্রশাসনের অবস্থা হয়েছে ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’র মতো। কার্ড দেওয়ার আগে যেভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল, সেভাবে করা হয়নি। সাংবাদিক নামধারী দলীয় নেতা-কর্মীদের কারণে ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপর এসে পড়বে।

তিনি এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।