ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

মহাকাশ থেকে বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা যেমন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

এবারের বিশ্বকাপে বিতর্কের কমতি ছিল না।

মাঠের ভেতরে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি জীবন, সমাজ ও রাজনীতিও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে এই টুর্নামেন্টে প্রভাব ফেলেছে। অনেক সময়ই মনে হয়েছে, ‘দ্য বিউটিফুল গেম’টির মানুষকে একসূত্রে গাঁথার শক্তিটা যেন খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে একেবারে আক্ষরিক অর্থে পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করার যে ক্ষমতা ফুটবলের রয়েছে, তা কিন্তু হারিয়ে যায়নি। বরং এবারের বিশ্বকাপ উন্মাদনা ছড়িয়েছে পৃথিবীর বাইরে অন্তরীক্ষেও। 

পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০ মাইল ওপরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থান করছেন দুই মার্কিন মহাকাশচারী জেসিকা মেয়ার ও ক্রিস উইলিয়ামস।

২০২০ সালে ক্রিস্টিনা কখের সঙ্গে ইতিহাসের প্রথম নারী স্পেসওয়াক (মহাকাশে হাঁটা) সম্পন্ন করেন সুইডিশ-আমেরিকান মহাকাশচারী মেয়ার। ৩৫০ দিনেরও বেশি সময় মহাকাশে কাটিয়েছেন তিনি। হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণায় অবদান রেখেছেন।

চলতি বছরের ভালোবাসা দিবস থেকে নাসার স্পেসএক্স ক্রু-১২ মিশনের স্পেসক্র্যাফট কমান্ডার হিসেবে সেখানেই আছেন ৪৯ বছর বয়সী মেয়ার। ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার মাইল বেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে করতে জানালার বাইরে তাকালেই তিনি দেখতে পান নীল গ্রহ পৃথিবী। আর সেই পৃথিবীতেই চলছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর—বিশ্বকাপ।

তার সঙ্গে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪২ বছর বয়সী ক্রিস উইলিয়ামস। এমআইটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করা উইলিয়ামসের এটি আইএসএসে প্রথম মিশন।

তাদের প্রতিদিনের কাজ শুরু হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। এরপর টানা ১২ ঘণ্টা ব্যায়াম, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মেরামতসহ ব্যস্ত থাকতে হয় নানা কাজে।

সপ্তাহান্তে তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সহকর্মীদের নিয়ে একসঙ্গে নৈশভোজ করেন, আর সুযোগ পেলেই বিশ্বকাপের ম্যাচও উপভোগ করেন।

পৃথিবী থেকে শত শত মাইল দূরে মহাকাশে বসেও বিশ্বকাপের উত্তেজনা থেকে দূরে থাকতে পারেননি তারা। গত শনিবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার ম্যাচটি তারা দলবেঁধে দেখেছেন।

মহাকাশ থেকে বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা কেমন? সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন দুই মহাকাশচারী।

মেয়ার বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো অনুষ্ঠান আমাকে অবশ্যই (পৃথিবীর) আরও কাছাকাছি থাকার অনুভূতি দেয়। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সময় আমি রাশিয়ায় প্রথম মহাকাশযাত্রার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম। তখনও মস্কোর রাস্তায় একই রকম উন্মাদনা দেখেছিলাম।’

আইএসএসে ফুটবল খেলায় মজেছেন মহাকাশচারীরা। ছবি: নাসা

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মানুষকে একত্রিত করার এমন মুহূর্তগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণাদায়ক ও সতেজ অনুভূতি দেয়। এই অনুভূতিটা অনেকটা সেই অনুভূতির মতো, যা আমরা মহাকাশচারীরা পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে পাই। ওপরে থেকে আমাদের সবার এই অভিন্ন গ্রহটিকে দেখলে মুহূর্তেই উপলব্ধি হয়—আমরা সবাই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।’

ক্রিস উইলিয়ামসও একই অনুভূতির কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘যখন পৃথিবীর দিকে তাকাই, তখন নিচের শহরগুলোর মানুষের কথা কল্পনা করি—তারা নিজেদের প্রিয় দলের জন্য উল্লাস করছে, টেলিভিশনের সামনে বসে ম্যাচ দেখছে। ঠিক যেমনটা আমি মহাকাশ স্টেশন থেকে করছি। বিশ্বকাপ দেখা আমাকে বাড়ির আরও কাছাকাছি থাকার অনুভূতি দেয়।’