'১৫টি শট নিয়েও গোল নেই', আক্ষেপ কলম্বিয়া কোচের
বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে কলম্বিয়া। তবে ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও নিজের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করেননি কোচ নেস্তর লরেঞ্জো। পুরো ম্যাচে ভালো খেলেও গোল করতে না পারার মূল্যই দিতে হয়েছে দলকে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে গোলশূন্য ড্র হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ভাগ্য সঙ্গ দেয় সুইজারল্যান্ডের। ম্যাচ শেষে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে লরেঞ্জো বলেন, গোলের সামনে ব্যর্থতাই তাদের বিদায়ের প্রধান কারণ, 'নিঃসন্দেহে আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি ছিল গোল করতে না পারা।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা জানতাম ম্যাচটি খুবই জমাট, কৌশলনির্ভর এবং সমানে সমান হবে। তবু আমার বিশ্বাস, ৯০ মিনিটে আমাদের জয়ের দাবিটাই বেশি ছিল। আমরা আক্রমণের চেষ্টা করেছি, অনেক শট নিয়েছি, কিন্তু গোল করতে পারিনি।'
লরেঞ্জোর মতে, সময় যত গড়িয়েছে ম্যাচের গতি তত কমেছে। দুই দলই ক্লান্ত হয়ে পড়ায় খেলা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়ায়। ম্যাচে জন আরিয়াসকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন কলম্বিয়া কোচ। তার ভাষ্য, আরিয়াস শারীরিকভাবে ক্লান্ত ছিলেন। পাশাপাশি আগের ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় আরেকটি কার্ড পেলে সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।
একই কারণে ম্যাচের শেষদিকে বদলি করা হয় ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজকেও, যিনি দ্বিতীয়ার্ধে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন।
লরেঞ্জো বলেন, 'শেষ দিকে আরেকটি ট্যাকলে লাল কার্ড দেখার ঝুঁকি ছিল। পাশাপাশি ক্লান্তিও কাজ করছিল।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য গর্বই প্রকাশ করেছেন তিনি, 'আমরা ১৫টি শট নিয়েছি, যা অনেক। কিন্তু গোল করতে না পারলে তার মূল্য দিতেই হয়। খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়ার কিছু নেই। কখনও বল জালে জড়ায়, কখনও জড়ায় না।'
বিশ্বকাপে দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে কলম্বিয়াকে। অন্যদিকে ইতিহাস গড়ে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইজারল্যান্ড, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।