মায়ামিতে মেসির ‘হোমকামিং’ আর্জেন্টিনার জার্সিতে

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মায়ামির ‘লিটল বুয়েনস আয়ার্স’ পাড়ায় একটু হাঁটলেই কমবেশি সবার কাছে লিওনেল মেসির সঙ্গে দেখা হওয়ার কোনো না কোনো গল্প শুনতে পাবেন।

শুরুতে মনে হতে পারে গল্পগুলো বানিয়ে বলা। কিন্তু যখনই মায়ামির কোনো বাসিন্দা তার ফোনে মেসির সঙ্গে তোলা ছবিটি দেখাবে, তখন অবাক হওয়ারই কথা।

ছবিতে দেখা যায়, স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটের ভেতরে এক ভক্তের পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি।

এই ছবি কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি নয়, একদমই বাস্তব। কারণ মায়ামির অনেকের ফোনেই রয়েছে মেসির সঙ্গে তোলা এমন ছবি।

বেকারি, কফি শপ কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল—পুরো মায়ামিজুড়ে যেন মেসির ছোঁয়া লেগে আছে।

২০২৩ সালে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই শহরে এসেছিলেন মেসি। তখন তিনি ছিলেন একজন মেগাসেলিব্রেটি। ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার এবং বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত মুখ।

মায়ামি বিচে আর্জেন্টাইন ফ্যান। ছবি: সংগৃহীত

তখন ফ্রান্সের ক্লাব পিএসজি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন মেসি।

আন্তর্জাতিক মিডিয়া থেকে একটু দূরে থেকে পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি ইন্টার মায়ামিতে ক্যারিয়ার সচল রাখতে চেয়েছিলেন তিনি।

তবে বিশ্বখ্যাত এই ফুটবলার পুরোপুরি নিজেকে আড়ালে রাখতে পারেননি।

শুরুর দিকে মায়ামিতেও ভক্ত, সাংবাদিকরা মেসিকে অনুসরণ করত। ইন্টার মায়ামির অনুশীলন মাঠের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করত, শুধু মেসিকে এক পলক দেখার জন্য।

শপিংপল, রেস্তোরাঁ কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালেও মেসিকে এক নজর দেখতে পাওয়া, তার সঙ্গে একটা সেলফি তোলা, যেন এক ধরণের খেলায় পরিণত হয়েছিল।

কিন্তু সময় পার হতেই মায়ামির মানুষ তাকে আপন করে নেয় ।

মায়ামিতে মেসি ভক্তরা। ছবি: সংগৃহীত

ইন্টার মায়ামির গোলাপি রঙের ১০ নম্বর জার্সি যেন সবার ইউনিফর্মে পরিণত হয়।

তবে গত বুধবার সন্ধ্যায় সেই গোলাপি আভা ঢেকে গিয়েছিল আকাশি-সাদার এক বিশাল ঢেউয়ে।

মেসি ও তার আর্জেন্টিনা দল যখন মায়ামিতে নামে, তখন আকাশি-সাদা রঙে তাদের স্বাগতম জানানো হয়।

এবার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে
মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচটি মেসির জন্য এক ধরনের ‘হোমকামিং’ বা ঘরে ফেরা।

ইন্টার মায়ামির সিজন টিকিটধারী ২৭ বছর বয়সী থিয়াগো গোমেজ বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি তাকে উদযাপনের এক মহাসুযোগ। মেসিকে প্রতিদিন দেখা এক বিষয়, আর বিশ্বকাপে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে দেখা সম্পূর্ণ অন্যরকম অনুভূতি।’

মায়ামিতে গত তিন বছরে মেসির জীবন অনেকটাই সাধারণ মানুষের মতো ছন্দে ফিরেছে। এই তিন বছরে তিনি শহরটিকে একটি চ্যাম্পিয়নশিপ এনে দিয়েছেন এবং এখানকার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন।

মায়ামির ফোর্ট লডারডলে অনুশীলনে মেসি। ছবি: এএফপি

মায়ামির ভক্তরা আগামীতে মেসিকে ইন্টার মায়ামির গোলাপি জার্সিতে দেখার আরও সুযোগ পাবেন, কারণ চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত বাড়িয়েছেন মেসি।

তবে আপন করে নেওয়া ঘরের মাঠে, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ফুটবলারকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলতে দেখার এই সুযোগটি অত্যন্ত বিরল।

আর মায়ামিতে থাকা প্রতিটি আর্জেন্টাইন ও মেসি ভক্ত এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি নিয়ে ভীষণভাবে রোমাঞ্চিত।