ফিফা বিশকাপ ২০২৬

আবেগঘন ম্যাচে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোনালদোর প্রথম গোল

এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গোল ছিল ১০টি। তবে তার কোনোটিই ছিল না নকআউট রাউন্ডে। নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার দীর্ঘ খরা কাটালেন তিনি আবেগঘন এক মঞ্চে, দলের পিছিয়ে পড়া অবস্থায়।

টরোন্টোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল রোনালদোদের সতীর্থ দিয়েগো জোটার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে। পর্তুগাল দলের জন্য এটি ছিল আবেগঘন সময়। এমন ম্যাচে প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করলেও ইভান পেরিসিচের গোলে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে যায় পর্তুগাল। জেগে ওঠে বিদায়ের শঙ্কা।

ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সেটা ঠাণ্ডা মাথায় দূর করেন রোনালদো। রেনাতো ভেইগাকে বক্সে ফাউল করা হলে ভিএআরে পেনাল্টি পেয়েছিল পর্তুগাল। সেখান থেকে বল জালের মাঝখান দিয়ে আলতো করে পাঠান রোনালদো।

তার খানিক আগেই আরেকবার বল জালে জড়িয়েছিলেন তিনি। তবে তার চমৎকার ফিনিশিং বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। সেই আক্ষেপ দীর্ঘ হয়নি পেনাল্টিতে পাওয়া গোলে। রোনালদোর সমতাসূচক গোলটি পর্তুগালের শিবিরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে।

এই সমতা ধরে অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোতে থাকা ম্যাচে যোগ করা সময়ে বাজিমাত করেন গনসালো রামোস। খানিক পর ক্রোয়েশিয়াও নাটকীয়ভাবে খেলায় ফিরে এসেছিল। তবে ভিএআরে অফসাইডে শেষ সময়ে তাদের গোল বাতিল হলে ২-১ গোলে জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।

এর আগে, পর্তুগালের শুরুর একাদশে অধিনায়ক হিসেবে নাম ঘোষণার পর কিক-অফের আগেই ইতিহাস গড়েন রোনালদো। ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ শুরু করা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হন তিনি।

তার রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের সতীর্থ এবং ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ ৪০ বছর ২৯৬ দিন বয়সে দ্বিতীয় বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ শুরু করেন।

রোনালদো তার ২৬তম ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তিনি লোথার ম্যাথুসকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার সামনে এখন কেবল লিওনেল মেসি।

এর আগে এই টুর্নামেন্টে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে রোনালদো প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন।