জর্ডানের গোলে ‘অভিশাপ’ কাটল আর্জেন্টিনার!
জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য ফলাফলের দিক থেকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। অস্ট্রিয়াকে হারিয়েই আগের ম্যাচে গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষস্থান ও শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ফেলেছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই ম্যাচে একটি ঘটনা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে কুসংস্কারের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে জর্ডানের তারকা মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। সেই গোলেই এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে লিওনেল স্কালোনির দল। আর সেটিই নাকি আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছে বহুদিনের এক ‘বিশ্বকাপ অভিশাপ’ থেকে।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, গ্রুপ পর্বে একটিও গোল না খেয়ে কোনো দলই কখনও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ছিল গোল না খাওয়া কয়েকটি দলের একটি। শুধু তাই নয়, প্রথম দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষ কার্যত তাদের রক্ষণভাগে বড় কোনো পরীক্ষা নিতে পারেনি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতিপক্ষ একবার বল জালে পাঠালেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও ক্লিন শিট ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ফলে জর্ডান ম্যাচের আগে পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাদের জালে কোনো বৈধ গোল হয়নি।
তবে আল-তামারির গোলের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভাঙে। অনেকের মতে, এই গোলই আর্জেন্টিনাকে ‘ক্লিন শিট অভিশাপ’ থেকে মুক্ত করেছে। কুসংস্কারে বিশ্বাসীরা তাই এটিকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।
অবশ্য আর্জেন্টিনাকে ঘিরে এটিই একমাত্র ‘অভিশাপ’ নয়। আরও একটি পরিসংখ্যান সমর্থকদের ভাবাতে পারে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হিসেবে কোনো দেশ কখনও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এবার টুর্নামেন্টে শীর্ষ র্যাঙ্কধারী দল হিসেবেই অংশ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে, বর্তমান ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলের ফ্রান্সও আরেকটি কুসংস্কারের মুখোমুখি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলারকে নিয়ে কোনো দল কখনও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।
তবে এসবই কেবল পরিসংখ্যান ও কুসংস্কার। বাস্তবে বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় শর্ত মাঠের পারফরম্যান্স। আর সেই জায়গায় এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দেই এগিয়ে চলছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।