ভিসা বিতর্কের মাঝেই বিশ্বকাপে ইরান
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দলটির খেলোয়াড়রা ভিসা পেলেও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফকে ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রা করেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
শনিবার তুরস্ক থেকে রওনা হয়েছে ‘টিম মেল্লি’। বাংলাদেশ সময় রোববার সন্ধ্যার দিকে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায় পৌঁছানোর কথা তাদের। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে এই শহরেই ঘাঁটি গড়বে ইরান।
২০২৬ বিশ্বকাপের বিশেষত্ব হলো, এটিই প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে আয়োজক দেশের একটি যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধাবস্থায় থাকা একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাচ্ছে। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলবে ইরান।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় তিন সপ্তাহ তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুশীলন করেছে ইরান। সেখান থেকেই মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদন করা হয়।
ইরানের যাত্রার আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত দূত টম ব্যারাক জানান, খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
তাদের অভিযোগ, দলের ১৫ জন প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজও রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইরানি দূতাবাস বলেছে, “ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও বৈষম্যমূলক আচরণকে আপনারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।” একই সঙ্গে তারা ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য।
বিতর্ক আরও বেড়েছে ইরানের রাষ্ট্রদূত আবোলফাজল পাসানদিদেহর এক বক্তব্যে। তিনি দাবি করেছেন, ভিসার শর্ত অনুযায়ী ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে এবং একই দিন দেশ ছাড়তে হবে ইরানকে।
তবে জাতীয় দলের মুখপাত্র আমির মাহদি আলাভি ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য, দলকে একাধিকবার প্রবেশের অনুমতিসহ ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ম্যাচের এক বা দুই দিন আগে তারা সংশ্লিষ্ট শহরে যেতে পারবে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন কোচকে ম্যাচ ভেন্যুতেই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে হয়। ফলে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি সত্য হলে সেটি বাস্তবায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খেলোয়াড় ও প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা ইরান দলকে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয়ে কোনো সন্ত্রাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেব না।”
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সমস্যা খেলোয়াড়দের নিয়ে নয়, বরং তাদের সঙ্গে আসা কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে, যাদের মধ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিও থাকতে পারেন।
এই ভিসা জটিলতার প্রভাব পড়েছে ইরাক দলের ওপরও। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তাদের দুই সদস্যকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে দলের এক আলোকচিত্রীকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
সব বিতর্কের মাঝেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ‘জি’ গ্রুপে থাকা দলটি ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।