এক্সপ্লেইনার

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার, সংসদ পরিচালনা করবেন কে?

Rafi Ahmad Dewan
রাফি আহমদ দেওয়ান

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আজ শুক্রবার বিকেলে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের কাছে সই করা চিঠি পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।

সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সই করা পদত্যাগপত্র আজ বিকেল ৫টা ১ মিনিটে আমার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আমি সেটি গ্রহণ করেছি। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডের সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এর ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া বা বর্তমান রাষ্ট্রপতি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রশ্ন হলো—স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে সংসদ পরিচালনা করবেন কে?

নিজের দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন বলেন, স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই আমি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ নিয়েছি। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথ নেওয়ার সময় এমন শপথ নেন, যেখানে বলা আছে, কোনো কারণে স্পিকারের পদ শূন্য হলে তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার।

‘এ ছাড়া স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুজনের অনুপস্থিতিতে সংসদ পরিচালনার জন্য স্পিকারের একটি প্যানেল থাকে। ডেপুটি স্পিকার অসুস্থ হয়ে পড়লে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ওই প্যানেলের একজন সদস্য স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন’, বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, সাধারণ নির্বাচনের মতোই প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরপর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় এবং বৈধ প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হয়। তবে এ নির্বাচনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৫০ সদস্য।

তিনি আরও বলেন, অন্য কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেলেও সাধারণত সরকারি দলের প্রার্থীই নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে মনে পড়ে না। এখন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি কাকে প্রার্থী করে, সেটিই দেখার বিষয়।

বিষয়টি নিয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ডেইলি স্টারকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এর পরেই সংবিধানে বলা হয়েছে, স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয় ও বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়।

আলী ইমাম মজুমদার আরও বলেন, একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের জন্য সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়। তবে একজন মাত্র প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণ বা অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন হয় না। তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।