কমতে শুরু করেছে বিশ্বকাপ টিকিটের দাম

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আর অল্প কিছুদিন বাকি। তবে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা এখন নতুন মোড় নিয়েছে। সেকেন্ডারি বা পুনর্বিক্রয় বাজারে বিশ্বকাপের টিকিটের দাম গত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

টিকিট বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'টিকিটডাটা'র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর গড় ‘গেট-ইন’ মূল্য নেমে এসেছে ৫৫০ ডলারে, যা মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ কম। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য শুরু থেকেই সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল। তবে পুনর্বিক্রয় বাজারে এখন অনেক ম্যাচের টিকিট তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নেমেছে। গত তিন মাসে ইউএসএমএনটির তিনটি গ্রুপ ম্যাচের গড় প্রবেশমূল্য কমেছে প্রায় ৩৮.৭ শতাংশ, যা এখন দাঁড়িয়েছে ৮৬৫ ডলারে।

ইরাকের ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রেও বড় পতন দেখা গেছে। তাদের গড় টিকিট মূল্য কমেছে ৪১.৭ শতাংশ, নেমে এসেছে ৩৪২ ডলারে। সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে তুরস্কের ম্যাচে, প্রায় ৪৮.৭ শতাংশ কমে এখন গড় মূল্য ৪২৮ ডলার।

তবে সব ম্যাচের চিত্র এক নয়। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া ম্যাচ এখনো সবচেয়ে ব্যয়বহুলগুলোর একটি। সেই ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্যই ৩ হাজার ডলারের বেশি। পুনর্বিক্রয় বাজারে সবচেয়ে দামি দলও এখন কলম্বিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও টিকিটের দাম এখনো বেশ চড়া, যদিও কিছুটা কমেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ১২ জুন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের মূল্য জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো ১ হাজার ডলারের নিচে নেমেছে।

তবে সেই ম্যাচের টিকিট বিক্রি নিয়ে হতাশার খবরও রয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক গত মাসে জানিয়েছিল, উদ্বোধনী ম্যাচটির জন্য তখন পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৪০ হাজার ৯৩৪টি টিকিট। অথচ স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৭০ হাজার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেকেন্ডারি বাজারে টিকিটের দাম চাহিদা, সরবরাহ এবং সময়ের ওপর নির্ভর করে দ্রুত ওঠানামা করে। টুর্নামেন্ট যত ঘনিয়ে আসবে, আরও টিকিট বাজারে এলে বা বিক্রেতারা দাম কমালে মূল্য আরও কমতে পারে।

এদিকে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে তিনি বলেন, 'আমরা ৫০ কোটি টিকিটের আবেদন পেয়েছি। আগের দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে আবেদন ছিল ৫ কোটি। এবার আমরা বাজারে ছাড়া টিকিটের শতভাগ বিক্রি করেছি।'

তিনি আরও বলেন, 'হ্যাঁ, কিছু টিকিট দামি। তবে সাশ্রয়ী টিকিটও রয়েছে।'

বর্তমানে ফিফার শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রি পর্ব চালু রয়েছে। ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড’ ভিত্তিতে টিকিট বিক্রি হচ্ছে, তবে সবই নির্ভর করছে প্রাপ্যতার ওপর।