২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির শেষ ধাপ শুরু

স্পোর্টস ডেস্ক

আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের চতুর্থ তথা শেষ ধাপের টিকিট বিক্রি বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই মহাযজ্ঞের জন্য এই ধাপে ৩০ লাখেরও বেশি টিকিট ছাড়া হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা জানিয়েছে, 'লাস্ট-মিনিট' পর্যায়ের এই টিকিট বিক্রি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে শুরু হয়েছে। 'আগে আসলে আগে পাবেন' ভিত্তিতে এই টিকিট বিক্রি চলবে আগামী ১৯ জুলাই অর্থাৎ বিশ্বকাপের শেষ দিন পর্যন্ত। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে টিকিটগুলো বিক্রির জন্য ছাড়া হবে— যার মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে ম্যাচের দিনও টিকিট পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

নির্ধারিত সময়ে টিকিটপ্রত্যাশীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য একটি 'ওয়েটিং' পেজে 'সারিবদ্ধভাবে' অপেক্ষার সুযোগ পাবেন। তবে সেখানে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ফিফার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, 'টিকিট বিক্রির মূল পর্বে প্রবেশের আগে একটি কাউন্টডাউন স্ক্রিনে দেখা যাবে। কাউন্টডাউন শেষ হওয়ার পর ৫ মিনিটের জন্য একটি "এন্টার" বাটন সচল হবে, যেখানে ক্লিক করে ভেতরে প্রবেশ করা যাবে।'

তিনটি দেশের মোট ১৬টি ভেন্যুর দর্শক ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে টুর্নামেন্টজুড়ে সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টিকিট রাখা হয়েছে। প্রথম তিন ধাপে ইতোমধ্যে ৩০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। কেবল জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে হওয়া 'র‍্যান্ডম সিলেকশন ড্র' পর্যায়েই বিক্রি হয়েছে ১০ লাখের বেশি টিকিট। ফিফার দাবি অনুযায়ী, ওই পর্যায়ে টিকিটের জন্য ৫০ কোটি আবেদন জমা পড়েছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ৩৫ লাখ টিকিট বিক্রির যে রেকর্ড ছিল, এবার তা অনায়াসেই ভেঙে ফেলবে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। এবারের আসরে ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং সব মিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৭৮টি ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে।

তবে টিকিট বিক্রির এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও কম হচ্ছে না। স্বাগতিক দেশগুলোকে আয়োজক স্বত্ব দেওয়ার সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা লঙ্ঘন করে ফিফা আকাশচুম্বী দামে টিকিট বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও গত ডিসেম্বরে কেবল বিভিন্ন দেশের অফিসিয়াল সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর জন্য ৬০ ডলার মূল্যের একটি ক্যাটাগরি চালু করেছিল তারা। তবে ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপের (এফএসই) মতে, সাধারণ মানুষের জন্য টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার আগেই এই কোটা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।

এছাড়া, বৃহস্পতিবার থেকে ফিফা তাদের অফিসিয়াল টিকিট পুনরায় কেনাবেচা (রিসেল) ও বিনিময়ের প্ল্যাটফর্মটি আবার সচল করতে যাচ্ছে। যদিও এই প্ল্যাটফর্মেও টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।

ফিফা অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, তারা এই 'ফ্যান-টু-ফ্যান মার্কেট' নিয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রেতাই টিকিটের দাম নির্ধারণ করবেন— তা যত আকাশ্চুম্বীই হোক না কেন। তবে মেক্সিকোর আইনি কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় সেখানে আসল দামের চেয়ে বেশি দামে টিকিট পুনরায় বিক্রি করা নিষিদ্ধ।