'মনোযোগের ঘাটতিই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বড় সমস্যা'
তিন তিনবার এগিয়ে গিয়েও জয় পাওয়া যায়নি। হতাশার আরও একটি ড্র। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বোর্নমাউথের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের পর দলের অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে বারবার মনোযোগ হারানোর দিকটিই তুলে ধরলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ রুবেন আমোরি। একাধিকবার লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে না পারায় হতাশা গোপন করেননি পর্তুগিজ কোচ।
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে মাতেউস কুনহার গোলে ৪–৩ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আমোরি ভেবেছিলেন সেটিই ম্যাচ-জয়ী মুহূর্ত। কিন্তু মাত্র পাঁচ মিনিট পরই ১৯ বছর বয়সী বদলি খেলোয়াড় এলি জুনিয়র ক্রুপি গোল করে বোর্নমাউথকে আবার সমতায় ফেরান। এই ম্যাচে এটি ছিল তৃতীয়বার, যখন এগিয়ে থেকেও লিড হাতছাড়া করে ইউনাইটেড। মৌসুমের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েও চার গোল হজম করতে হওয়াটা হতাশাজনক বলে স্বীকার করেন আমোরি।
'এটা ভীষণ হতাশাজনক। ফলাফল একেবারেই ভিন্ন হতে পারত,' বলেন তিনি।
'দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সমস্যা, নটিংহ্যাম ফরেস্ট ম্যাচের মতো মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে মনোযোগ হারালাম, আর প্রতিপক্ষ দুই গোল করে ফেলল। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি, দুই গোলও করেছি। কিন্তু এরপর ম্যাচটা শেষ করতে পারিনি।'
পুরো প্রথমার্ধে দাপট দেখায় ইউনাইটেড। ১৭টি শট নেয় তারা, বলের দখল ও আক্রমণে ছিল স্পষ্ট আধিপত্য। তবে অসংখ্য সুযোগ কাজে না লাগানোর খেসারত দিতে হয়।
'আমরা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করেছি, অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। বিরতিতে ভিন্ন ফল নিয়ে যাওয়াই উচিত ছিল,' বলেন আমোরি।
'শেষ পর্যন্ত আমরা বেশি প্রাপ্য ছিলাম।'
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দর্শকদের প্রত্যাশা নিয়েও কথা বলেন ইউনাইটেড কোচ।
'এখানকার মানুষ শুধু জয় চায় না, তারা ভালো ফুটবলও দেখতে চায়। কিছু সময়ে আমরা সেটা দেখাতে পেরেছি। পারফরম্যান্স ভালো ছিল, কিন্তু এত সুযোগ তৈরি করেও যদি ক্লিনিক্যাল না হই, তাহলে ফল পাওয়া যায় না।'
আমোরি স্পষ্ট করে দেন, সমস্যাটা কৌশলের চেয়ে মানসিক দিকেই বেশি।
'অনেক ইতিবাচক দিক আছে, আবার অনেক কিছুতে কাজ করতে হবে। আমরা ম্যাচ হারাচ্ছি বা জিততে পারছি না ছোট ছোট মুহূর্তের কারণে। এটা তিন ডিফেন্ডার, চার ডিফেন্ডার বা পাঁচ ডিফেন্ডারের বিষয় নয়। ম্যাচের গতি বুঝতে হবে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।'
এই ম্যাচে নিজের পছন্দের পাঁচ ডিফেন্ডারের সেটআপে সামান্য পরিবর্তন এনে আমাদ দিয়ালোকে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলান আমোরিম। ১৩তম মিনিটে কাছ থেকে হেড করে গোলও করেন দিয়ালো। ম্যাচ শেষে তিনিও দলের হতাশার কথা জানান।
'ড্রেসিংরুমে ঢুকেই বোঝা যাচ্ছিল, সবাই ভীষণ হতাশ,' বলেন দিয়ালো।