জিতলেও মরিনহোর রিয়ালকে ভাবতে হবে অনেক কিছু

স্পোর্টস ডেস্ক

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন অধ্যায়ের শুরুতেই জয়ের আনন্দ থাকলেও জোসে মরিনহোর জন্য অস্বস্তির কাঁটাও থেকে যাচ্ছে। ইন্টার মিলানের বিরুদ্ধে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয়টি তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স রিয়াল মাদ্রিদের অনেক ফাঁকফোকর উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ম্যাচের ফল দিয়ে মাঠের ভেতরের আসল ছবিটা বোঝা যাবে না; কারণ পুরো ৯০ মিনিট রিয়াল জিতেছে বললে ভুল হবে, বরং বলা ভালো ইন্টারের ভুলে জয় উপহার পেয়েছে।

প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যেই দুই গোলে এগিয়ে যাওয়াটা রিয়ালের সুপরিকল্পিত আক্রমণের ফল ছিল না, বরং ছিল ইন্টারের রক্ষণভাগের দুটো মারাত্মক ভুল। কিলিয়ান এমবাপে আর ফেদেরিকো ভালভের্দে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু খেলার নিয়ন্ত্রণ ছিল ইতালিয়ান ক্লাবটির হাতেই। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় পাসের পরিসংখ্যানই আসল গল্পটা বলে দেয়—ইন্টারের ১২৮টি পাসের বিপরীতে রিয়ালের ছিল সাকুল্যে ১৫টি!

মরিনহো অবশ্য ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নিজের কৌশল পরিষ্কার করে বলেছিলেন, ‘সুন্দর খেলে হারার চেয়ে যেকোনো উপায়ে জয় ছিনিয়ে আনাটাই আমার কাছে আসল।’

তিনি জয় পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এই খেলায় ইউরোপের সেরাদের সঙ্গে টেক্কা দেওয়া কঠিন। মাঝমাঠে আর্দা গুলের কিংবা বার্নার্দো সিলভার অভাব স্পষ্ট টের পাওয়া গেছে। আর সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডকে খেলানোর পরীক্ষা তো পুরোপুরি ব্যর্থ; মাঠে তাকে একেবারেই দিশেহারা লেগেছে।

দলটি যে পয়েন্ট হারিয়ে মাঠ ছাড়েনি, তার মূল কৃতিত্ব থিবো কুর্তোয়ার। ইন্টারের ১৭টি আক্রমণের মধ্যে ৭টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে রিয়ালকে রক্ষা করেন এই বেলজিয়ান প্রাচীর। এমনকি ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার পর ফেদেরিকো ভালভের্দেও অকপটে স্বীকার করেন, ‘আজকের ম্যাচের আসল রক্ষাকর্তা কুর্তোয়া।’

আক্রমণভাগে অবশ্য নিজের কাজটা ঠিকই করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। আধুনিক ফরোয়ার্ডদের মতো ডিফেন্সে সাহায্য না করা নিয়ে সমালোচনার জবাবে ম্যাচ শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘যাদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, আমি তাদের চেয়ে গোল বেশি করি। তবে অবশ্যই নিজেকে আরও গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে।’

মাঠে সেই কথা প্রমাণ করতেই যেন ইন্টার ডিফেন্ডারকে চেপে ধরে ভুল করতে বাধ্য করেন এবং প্রথম গোলটি এনে দেন।

তবে প্রতিদিন কেবল কুর্তোয়ার গ্লাভস আর এমবাপের ব্যক্তিগত কারিশমায় ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। ম্যাচের শেষ দিকে ভিনিসিউস জুনিয়র ও এমবাপেকে যখন তুলে নেওয়া হচ্ছিল, গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দর্শকদের অসন্তোষের বাঁশিই বলে দেয়—ঘরের মাঠে সমর্থকেরা এই জয় পেয়েও স্বস্তিতে নেই।

মরিনহোর দ্বিতীয় ইনিংসের যাত্রা কেবল শুরু। কিন্তু আগামী জুনে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন সত্যি করতে হলে দ্রুতই নিজেদের আসল খেলার ছন্দ ফিরিয়ে আনতে হবে।