এমবাপে-বেলিংহ্যামের নৈপুণ্যে রিয়ালের দাপুটে জয়

স্পোর্টস ডেস্ক

নতুন মৌসুমের শুরুটা দারুণভাবেই এগিয়ে চলেছে রিয়াল মাদ্রিদের। আর এই দাপুটে পথচলায় এবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন দলের তারকা খেলোয়াড়রা। তাদের নৈপুণ্যে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মাদ্রিদ, শেষ পর্যন্ত মালাগাকে উড়িয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে হোসে মরিনহোর দল।

রোববার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মালাগাকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। দলের হয়ে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম ও আর্দা গুলার। অপর গোলটি এসেছে আত্মঘাতীর সুবাদে।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল মালাগা। প্রতিপক্ষের এমন সাহসী মানসিকতাই বরং রিয়ালকে আরও স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেয়। রক্ষণে জমাট হয়ে থাকা কোনো দেয়াল ভাঙার বদলে খোলা মাঠে আক্রমণের সুযোগ পেয়ে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শুরুতে মালাগাই প্রথম বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করেছিল। তাতে রিয়াল বুঝে যায়, প্রতিপক্ষ রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে আসেনি। এরপরই বেলিংহ্যাম-এমবাপেদের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে শুরু করে সফরকারীরা।

১৯ মিনিটে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় রিয়ালকে এগিয়ে দেন বেলিংহ্যাম। গোলের আগে ইংলিশ মিডফিল্ডারের ফাউলের দাবি তুলে প্রতিবাদ করেছিল মালাগা। ভিএআরেও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়, তবে গোল বাতিলের মতো কিছু খুঁজে না পাওয়ায় ১-০ ব্যবধান বহাল থাকে।

এর ছয় মিনিট পর আবারও আলোচনায় বেলিংহ্যাম। এমবাপের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন মালাগার গোলরক্ষক হেরেরো। ফিরতি বলে বেলিংহ্যামের হেড ঠেকাতে গিয়ে বল নিজের শরীরেই লেগে জালে জড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত গোলটি হেরেরোর আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হয়। রিয়ালের ব্যবধান তখন ২-০।

মালাগা যখন ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজছিল, তখন তাদের আরও বড় ধাক্কা দেন এমবাপে। ৩০ মিনিটে ডান দিক থেকে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের বাড়ানো বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ফরাসি তারকা।

প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচ কার্যত নিজেদের পকেটে পুরে নেয় রিয়াল। বিরতিতে যাওয়ার আগে চারটি শট লক্ষ্যে রেখে তিনবার জাল খুঁজে নেয় তারা। বিপরীতে মালাগাও সুযোগ পেয়েছিল। চুপের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের।

দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোলের লিড নিয়ে আরও স্বস্তিতে খেলতে থাকে রিয়াল। আক্রমণে একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান বাড়াতে কিছুটা সময় লাগে। বেলিংহ্যাম আবারও গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

মালাগা অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকবার রিয়ালের রক্ষণে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের গতি কমে এলেও স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

৮৫ মিনিটে ডি-ওয়াইংয়ের হাতে বল লাগার অভিযোগে মালাগাকে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। তবে ভিএআরে ঘটনাটি পুনরায় দেখে পরে সিদ্ধান্ত বদলে দেন তিনি। ফলে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগও পায়নি মালাগা।

শেষ মুহূর্তে রিয়ালের চতুর্থ গোলটি আসে আরদা গুলারের পা থেকে। ৮৭ মিনিটে মাঠে নামার পর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস ধরে জালে বল পাঠান তুর্কি তারকা। তাতে ৪-০ ব্যবধানে নিশ্চিত হয় রিয়ালের বড় জয়।