‘৬০ নয়, শিরোপাসহ ৪০ গোল চাই,’ এমবাপেকে বড় বার্তা মরিনহোর
শেষ দুই মৌসুমেই লা লিগার শীর্ষ গোলদাতা ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু শিরোপার দেখা মিলেনি। নতুন মউশুমেও রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের জানানও দিয়েছেন। তবে এমন পারফরম্যান্সের পরও রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর চাওয়া আরও বড়। শুধু গোল নয়, সঙ্গে শিরোপা জয়ও দেখতে চান তিনি।
রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৩ গোল করে মৌসুমে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন এমবাপে। টানা দুই ম্যাচে জয় নিয়ে লিগও শুরু করেছে মরিনিওর দল। রোববার ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাদের প্রতিপক্ষ সদ্য উন্নীত মালাগা। ফলে এমবাপের গোলের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন সমর্থকেরা।
তবে ফরাসি তারকার গোলসংখ্যা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন মরিনহো। বরং দলীয় সাফল্যের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে দেখতে চান তিনি, 'আমি শিরোপাসহ ৪০ গোলকে শিরোপা ছাড়া ৬০ গোলের চেয়ে বেশি পছন্দ করি। আমি এমন ৪০ গোল পছন্দ করি, যেখানে দলের জন্য অনেক পরিশ্রম থাকবে, শুধু নিজের জন্য খেলা ৬০ গোল নয়, ফরোয়ার্ডদের ক্ষেত্রে যেটা প্রায়ই দেখা যায়।'
এটি এমবাপের সমালোচনা নয় বলেও পরিষ্কার করেছেন মরিনহো। বরং দলের জন্য ফরাসি ফরোয়ার্ডের যে পরিশ্রম দেখা যাচ্ছে, সেটি ধরে রাখারই বার্তা দিয়েছেন তিনি, 'আমি তার ওপর খুব খুশি। টেকনিক্যাল দিক থেকে বলার মতো কিছু নেই। তবে দলকে এগিয়ে নেওয়া, দায়িত্ব নেওয়া এবং পরিশ্রম করার ক্ষেত্রে সে যেভাবে এগিয়ে আসছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।'
এমবাপের আগেভাগে প্রাক-মৌসুমে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন রিয়াল কোচ, 'সে দুই দিন আগেই এসেছিল। প্রাক-মৌসুমের সময়ে দুই দিন আগে আসাও ইতিবাচক কিছু বোঝাতে পারে।'
মরিনহোর মতে, এমবাপের কাছ থেকে গোলের বাইরেও আরও বেশি কিছু পাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুর্দান্ত খেলোয়াড়ে ভরা দলটি গত দুই মৌসুমে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি।
বিশ্বকাপে এমবাপের ইতিহাস গড়ার কথাও তুলে ধরেছেন রিয়াল কোচ। ফ্রান্সের হয়ে এবারের বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন ২৭ বছর বয়সী তারকা। বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ২২, যেখানে লিওনেল মেসির ২১। দুজনই ছাড়িয়ে গেছেন মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের আগের রেকর্ড।
'বিশ্বকাপে সে ইতিহাস তৈরি করেছে, এতে আমি সত্যিই খুশি। ২৫ জন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আছে, কিন্তু ফুটবলে চিরন্তন হয়ে থাকার সুযোগ সবার নেই। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড় হওয়া তার জন্য বিশেষ কিছু,' বলেন মরিনহো।
রিয়ালে যোগ দেওয়ার পরও অবশ্য এমবাপের সময়টা পুরোপুরি সাফল্যে মোড়া নয়। ২০২৪ সালে পিএসজি ছেড়ে মাদ্রিদে আসার পর সাবেক ক্লাবটি এরই মধ্যে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। অন্যদিকে বার্সেলোনা জিতেছে টানা দুই লা লিগা শিরোপা। রিয়াল গত দুই মৌসুমে কোনো ট্রফিই জিততে পারেনি।
যদিও ব্যক্তিগতভাবে এমবাপে ছিলেন দুর্দান্ত। রিয়ালের হয়ে প্রথম দুই মৌসুমে মাত্র ১০৩ ম্যাচেই ৮৬ গোল করেছেন তিনি। কিন্তু তার হাতে এসেছে মাত্র দুটি শিরোপা, ২০২৪ সালের উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।
তাই নতুন মৌসুমে লক্ষ্যটা স্পষ্ট এমবাপেরও। 'এ বছর আমাদের জিততেই হবে। আমরা সবাই সেটাই চাই এবং সেটাই করতে যাচ্ছি,' মৌসুমের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদের টিভিতে বলেছিলেন তিনি।
আর সেই লক্ষ্য পূরণের পথ হিসেবে মরিনহো দেখছেন দলীয় ফুটবলকেই। 'এই খেলোয়াড়দের নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি শেখানোর প্রয়োজন নেই। তাদের একসঙ্গে দল হিসেবে খেলতে শেখানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,' বলেন তিনি।