বিশ্বকাপজয়ী তারকাদের অভিযোগ, ‘ক্ষমতার মোহে অন্ধ’ ইনফান্তিনো

স্পোর্টস ডেস্ক

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলেছেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার ও ফিফা কিংবদন্তিদের একটি দল। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতার মোহে ফিফার বর্তমান নেতৃত্ব ফুটবলের স্বার্থ ও নিজেদের স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছে না। তাই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অবিলম্বে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে সাবেক খেলোয়াড়দের এই দলটি জানায়, বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো তারাও ফিফার বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে ফুটবল তার মূল মূল্যবোধ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, 'আমরা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের মতো একই উদ্বেগ ভাগ করে নিই। তাদের মতো আমরাও দেখেছি, ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে আমাদের প্রিয় খেলাটি তার মূল মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে গেছে।'

এরপরই ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ করে আরও কড়া মন্তব্য করেন তারা। 'পরিবর্তন প্রয়োজন। ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের এমনভাবে দৃষ্টিভঙ্গি ঝাপসা করে দিয়েছে যে, নিজেদের স্বার্থ আর ফুটবলের জন্য কী ভালো, তার মধ্যে পার্থক্য করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।'

এই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের তিন তারকা এমানুয়েল পেতি, বিসেন্তে লিজারাজু ও রবার্ট পিরেস। তাদের সঙ্গে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নারী বিশ্বকাপজয়ী ব্রিয়ানা স্কারি এবং ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা লুসি ব্রোঞ্জ।

এ ছাড়া সাবেক পেরু তারকা ক্লদিও পিসারো, আর্জেন্টিনার সাবেক খেলোয়াড় হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন, টোগোর সাবেক অধিনায়ক ইমানুয়েল আদেবায়োর এবং ফিফা কিংবদন্তি দিদিয়ের দ্রগবা ও ডেভিড জেমসও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন।

ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেও সাবেক খেলোয়াড়েরা পুরো সংস্থাকে অস্বীকার করেননি। বরং তারা দাবি করেছেন, ফিফার ভেতরেও এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান।

তারা বলেন, 'ফিফার ভেতরে এমন ভালো মানুষ রয়েছেন, যারা আস্থা পুনর্গঠন করতে চান। কিন্তু নতুন যুগের জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন—ফুটবল পরিচালনায় খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সরাসরি এবং বাস্তব ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।'

তাদের মতে, ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পক্ষ, মাঠের খেলোয়াড় এবং গ্যালারির দর্শক, ফুটবল পরিচালনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কথা বলার সুযোগ পান না। সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

'যারা মাঠে নামেন এবং যারা গ্যালারিতে বসেন, তাদের প্রত্যেকেরই ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সত্যিকারের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। সমর্থকদের জন্য, খেলোয়াড়দের জন্য এবং ফুটবলের স্বার্থে, আমরা আর নীরব থাকব না,' বিবৃতিতে বলা হয়।

ইনফান্তিনো ২০১৬ সাল থেকে ফিফার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। আগামী বছর আবারও নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা রয়েছে তার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা, এএফসি এবং কনকাকাফের মতো ফিফার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মধ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। এমনকি আগামী নির্বাচনের আগেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।