রিয়াল-বার্সায় কোচিং? সিমিওনের জবাব, ‘একটি নিশ্চিতভাবেই নয়, অন্যটিও মনে হয় না’
অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলায় নিজেকে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচে পরিণত করেছেন দিয়েগো সিমিওনে। কিন্তু ভবিষ্যতে স্পেনের আরেক দুই পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা বার্সেলোনার ডাগআউটে তাকে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে নিজের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই কোচ। সিমিওনের কথায়, দুই ক্লাবের একটিতে যাওয়ার সম্ভাবনা ‘নিশ্চিতভাবেই’ নেই, অন্যটির ক্ষেত্রেও তিনি খুব একটা আশাবাদী নন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা'কিপের সাপ্তাহিক সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিমিওনেকে প্রশ্ন করা হয়, ভবিষ্যতে রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা বার্সেলোনার কোচ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি নিশ্চিতভাবেই নয়। অন্যটি, আমার মনে হয় না।’
সিমিওনের এমন মন্তব্যে অবশ্য দুই ক্লাবের নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে তার বক্তব্য থেকে এটুকু পরিষ্কার, স্পেনের দুই জায়ান্টের ডাগআউটে ভবিষ্যতে তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
অ্যাতলেতিকোর দায়িত্ব নেওয়ার পর সিমিওনের হাত ধরেই ক্লাবটি স্প্যানিশ ফুটবলের দুই পরাশক্তির সঙ্গে নিয়মিত শিরোপার লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দলটি লিগ শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে। সিমিওনের অধীনে ২০১৪ সালে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও লা লিগা জেতে ক্লাবটি। এরপর ২০২১ সালেও লিগ শিরোপা ঘরে তোলে তারা।
তবে সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাতলেতিকোর ওপর প্রত্যাশার চাপও যে বেড়েছে, সেটি স্বীকার করেছেন সিমিওনে। তার ভাষায়, ‘আগে জিতলে আনন্দ হতো, এখন জিতলে স্বস্তি আসে।’
গত মৌসুমের উদাহরণ টেনে সিমিওনে জানান, এখন শুধু ভালো একটি মৌসুম কাটানোই অ্যাতলেতিকোর জন্য যথেষ্ট নয়। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠা, কোপা দেল রের ফাইনালে টাইব্রেকারে হার এবং লা লিগায় চতুর্থ হওয়া, এসবের পরও আগামী মৌসুমে আরও বড় সাফল্য চাইছে ক্লাবটি।
‘গত মৌসুমের চেয়ে ভালো করতে হলে আমাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে যেতে হবে, কাপ জিততে হবে এবং এমন একটি লিগে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে হবে, যেখানে রিয়াল ও বার্সেলোনা আছে,’ বলেন তিনি।
নতুন মৌসুমে সিমিওনের প্রধান লক্ষ্যও পরিষ্কার। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গত মৌসুমে হারিয়ে যাওয়া রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। পাশাপাশি মাঝমাঠের খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও আরও বেশি গোল চান এই আর্জেন্টাইন, ‘আমরা রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ফিরিয়ে আনতে চাই, বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে যেটা হারিয়েছিলাম। পাশাপাশি মিডফিল্ডারদের আরও বেশি গোল করতে হবে।’
তবে আতলেতিকোর দায়িত্বে আর কতদিন থাকবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঠিক করে রাখেননি তিনি। আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের ২২ বছর কিংবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ২৭ বছরের মতো দীর্ঘ সময় কোনো একটি ক্লাবের কোচ থাকার রেকর্ড ছোঁয়ার লক্ষ্যও নেই তার।
সিমিওনের কাছে বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন একই রকম শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা ও বিনয় নিয়ে কাজ করে যাওয়া। ‘আমি শুধু এখানে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি, উদ্যম ও বিনয়ের কথা ভাবছি,’ বলেন তিনি।
আতলেতিকোর বর্তমান অবস্থান নিয়েও গর্বিত সিমিওনে। তার মতে, ক্লাবটি এখন রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো দুই ‘পরাশক্তির’ সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জায়গায় পৌঁছেছে। তবে এই অবস্থান ধরে রাখতে হলে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।
‘আমরা এখন একটি বিশেষ জায়গায় আছি। কিন্তু আমাদের নিচে থাকা দলগুলোও আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। আতলেতিকোতে সবসময় ১১০ শতাংশ দিতে হয়। স্পেনে জিততে ১০০ শতাংশ যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন উন্নতি করতে হবে এবং কখনোই বিনয় হারানো যাবে না,’ বলেন তিনি।
জাতীয় দলের কোচিং নিয়েও কথা বলেছেন সিমিওনে। ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি। তবে সেটি এখনই নয়, ‘পরবর্তী সময়ে’ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স এবং কোচ লিওনেল স্কালোনিরও প্রশংসা করেছেন সিমিওনে। তার মতে, স্কালোনি অসাধারণ কাজ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো খেলেছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।