ছন্দময় ফুটবলে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল
ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরেই গত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিলো ব্রাজিল। আরেক বিশ্বকাপের আগে সেই ক্রোয়েশিয়াকে পেয়ে গা ঝাড়া দিয়ে উঠল পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। গেল কয়েকমাসের সমালোচনা ছাপিয়ে ছন্দময় ফুটবল উপহার দিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিরা। কার্লো আনচেলত্তির দল পেল বড় জয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অরলান্ডোতে ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছে ৩-১ গোলে। প্রথমার্ধে দানিলো দিও লিভেইরার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৮৪ মিনিটে সমতা এনেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার লোভরা মাহের। শেষের কয়েক মিনিটে ইগোর থিয়াগো ও মার্টিনেল্লি আরও দুইবার বল জালে জড়িয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ব্রাজিলের জার্সিতে ভিনিসিউসের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ছিলো। এদিন যেন সেই প্রশ্নেরও কিছুটা জবাব দিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। পুরো ম্যাচ তিনি খেলেননি, গোলও পাননি। তবে দারুণ ঝলকে প্রথম গোলের উৎস তিনিই।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে প্রতি আক্রমণ থেকে বাম পাশে বল নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে ক্রোয়েশিয়ার তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ফাঁকায় থাকা দানিলো ওলিভেইরার পায়ে বল তুলে দেন তিনি। ওই বল পেয়ে পালমেইরাস তারকা ব্রাজিলের হয়ে প্রথম গোল করেন।
এক গোলের লিড নিয়ে বিরতির পর আঁটসাঁট ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। একাদশে একাধিক বদল আনেন আনচেলত্তি। গোল পাওয়া দানিলোর সঙ্গে ভিনিসিউস, কাসেমিরো, দগলাস সান্তোস মাতিয়াস কুনহারা বেরিয়ে যান। তাদের বদলে এন্দ্রিক, মার্টিনেল্লি, ইগোর থিয়াগো, ভিতর রেইসরে মাঠে নামেন।
এক গোলের ব্যবধান নিয়ে মনে হচ্ছিলো ম্যাচ শেষ করবে ব্রাজিল। ওই সময় ডিফেন্সের ভুলে ক্রোয়েশিয়া সমতায় ফিরে আসে। নির্ধারিত সময়ের ৬ মিনিট আগে প্রতিপক্ষ সময়তায় এলে ফের জেগে উঠে ব্রাজিল। প্রথম আক্রমণেই বক্সে ঢুকে পেনাল্টি আদায় করে নেন এন্দ্রিক।
সেই পেনাল্টি থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল পান ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ছন্দে থাকা ইগোর থিয়াগো। যোগ করা সময়ে ইগোর থিয়াগো আরেক গোলের উৎস। তার পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল পান আর্সেনাল তারকা মার্টিনেল্লি।
বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে এটাই ছিলো ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ। ধারণা করা যাচ্ছে এই ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় রেখেই বিশ্বকাপের দল দেবেন আনচেলত্তি।