‘এমন অবিশ্বাস্য রাতের স্বপ্ন প্রত্যেকেই দেখে’
চোটের কারণে স্কোয়াডে নেই কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম ও রদ্রিগোর মতো সেরা একাদশের নিয়মিত তারকারা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মূল তারকাদের হারিয়ে যখন কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিল রিয়াল মাদ্রিদ, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে নিয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন তিনি। চোখ ধাঁধানো দক্ষতায় উত্তাল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারিকে মোহবিষ্ট করে আদায় করে নিলেন এক অনবদ্য হ্যাটট্রিক।
৪২ মিনিটেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডারের কৃতিত্বে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটিকে উড়িয়ে দেয় রিয়াল। ম্যাচ শেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে মুভিস্টারুকে ভালভার্দে জানালেন, এটিই তার ক্যারিয়ারের সেরা রাত, ‘এটি একটি অবিশ্বাস্য রাত ছিল। ফুটবলে এমন একটি রাতের স্বপ্ন প্রত্যেকেই দেখে। আমি আমার সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞ, তারা আমার ওপর প্রবল ভরসা রেখেছেন। তাদের সেই নিঃস্বার্থ সমর্থন ছিল বলেই আমি আজ এমন আত্মবিশ্বাস ও জেদ নিয়ে খেলতে পেরেছি।’
২০, ২৭ এবং ৪২ মিনিটের তিনটি ভিন্নধর্মী গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনেই তিনি সেরাটা দিতে প্রস্তুত। তার এমন পারফরম্যান্স নিয়ে উয়েফার টেকনিক্যাল অবজার্ভাররা বলেন, ‘তিনি কেবল হ্যাটট্রিকই করেননি, বরং রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে এমন এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন যা সিটির রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।’
এমবাপে-বেলিংহ্যামদের অনুপস্থিতিতে এদিন ভালভার্দেকে সাধারণত যে পজিশনে দেখা যায়, তার চেয়ে কিছুটা আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলিয়েছেন কোচ আলভারো আরবেলোয়া। নিজের নতুন ভূমিকা নিয়ে ভালভার্দে বলেন, ‘কোচের আমার প্রতি নির্দিষ্ট কিছু দাবি ছিল। তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন বক্সে আরও বেশি করে ঢুকে পড়ি এবং বিপজ্জনক জায়গাগুলো ব্যবহার করি। সতীর্থদের নিখুঁত পাসের কারণে আমার কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল।’
এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির হাই-প্রেসিং ফুটবল রুখতে রিয়াল মাদ্রিদ যে গোল কিক থেকে লম্বা পাসের কৌশল নিয়েছিল, তা সিটির ডিফেন্ডারদের রীতিমতো বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল বলে জানান তিনি।
৩ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ফিরতি লেগ নিয়ে কোনো আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন না মাদ্রিদ অধিনায়ক। ম্যানচেস্টারের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগ নিয়ে সতীর্থদের মনে করিয়ে দিলেন সর্তকবার্তা, ‘আমাদের ভাইদের মতো লড়তে হবে। একে অপরকে আগলে রাখতে হবে এবং সমর্থন দিতে হবে। তবেই বড় কিছু অর্জন সম্ভব। ম্যানচেস্টারে অ্যাওয়ে ম্যাচ সবসময়ই কঠিন। আমরা পরের ম্যাচটি এমনভাবে শুরু করব যেন স্কোরলাইন ০-০ আছে।’
ভালভার্দের এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও ম্যাচ শেষে তার পরিণত মন্তব্যগুলো এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে। রিয়াল ভক্তদের আশা, ফিরতি লেগেও এই একই উদ্যম ধরে রেখে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবেন তাদের প্রিয় 'ফেদে'।