ক্যাম্প গুলিস্তান থেকে ক্যাম্প অস্ট্রেলিয়া: ইতিহাস লিখতে নামছে বাংলাদেশের মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক

“সম্ভবত কম বলা হবে… বাংলাদেশের নারী ফুটবল ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচ,” এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপের অচেনা মঞ্চে পা রাখার আগে এমনভাবেই উপলক্ষটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন কোচ পিটার বাটলার।

দীর্ঘ অপেক্ষা, অসংখ্য পরিশ্রম আর স্বপ্নের পথ পেরিয়ে অবশেষে এশিয়ার শীর্ষ মঞ্চে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলতে নেমে তারা দাঁড়িয়ে গেছে ইতিহাসের দোরগোড়ায়, যেখানে প্রতিপক্ষ মহাদেশের পরাশক্তি দলগুলো।

মঙ্গলবার সিডনিতে বাংলাদেশ তাদের এশিয়ান কাপ অভিযান শুরু করবে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এটি শুধু মহাদেশীয় এই আসরে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণই নয়, ১৯৮০ সালের পর এশিয়ার শীর্ষ প্রতিযোগিতায় দেশের প্রথম উপস্থিতিও বটে।

সোমবার সিডনিতে প্রাক্-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, “মেয়েরা দারুণভাবে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এর পেছনে প্রচুর পরিশ্রম রয়েছে। আমরা এখানে এসেছি, এবং আশা করি ভবিষ্যতের জন্য একটি ভিত্তি, একটি পথচিহ্ন তৈরি করতে পারব। কারণ এই মঞ্চেই খেলতে চাওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

র‌্যাঙ্কিংয়ের হিসাব অবশ্য চ্যালেঞ্জের পরিধিটা স্পষ্ট করে দেয়। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১১২তম, যেখানে চীন ১৭তম। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া আছে নবম স্থানে, আর ৪৯তম স্থানে থাকা উজবেকিস্তান গ্রুপকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবু শুধু মূল পর্বে ওঠাটাই বাংলাদেশের জন্য এক মাইলফলক হয়ে আছে।

গত বছর মিয়ানমারে বাছাইপর্বে বাটলার দলকে আরও আক্রমণাত্মক ও সক্রিয় কৌশলে খেলিয়েছিলেন। এবার তিনি গর্ব ও বাস্তবতার সমন্বয় করতে চাইছেন।

“আমরা এখন বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলছি। তাই আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। খুব বড় প্রত্যাশা নয়, বরং বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়েই আমরা এখানে এসেছি,” বলেন তিনি।

তার বিখ্যাত মন্তব্য, “আমরা ক্যাম্প গুলিস্তান থেকে ক্যাম্প অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি,” শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়, মানসিকতারও রূপান্তর বোঝায়। বাটলারের ভাষায়, “প্রস্তুতিই সবকিছু। সঠিক প্রস্তুতি না নিলে ফল আশা করা উচিত নয়।”

অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারও একই বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

“আমাদের লক্ষ্য ভালো কিছু অর্জন করা। চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান, তারা খুব শক্তিশালী দল। কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা খেলব এবং সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব,” বলেন অধিনায়ক।

চীন সম্পর্কে আফঈদা বলেন, “তারা সব দিক থেকেই শক্তিশালী। তারা এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন, খুবই শক্তিশালী দল। তাদের মতো চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা অনেক কিছু শিখব। তবে তারা শক্তিশালী বলে আমরা লড়াই থেকে সরে দাঁড়াব না। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, এবং আশা করি ভালো কিছুই আসবে।”

চাপের প্রশ্নে অধিনায়কের জবাব পরিষ্কার, “না, আমরা কোনো চাপ অনুভব করছি না। আমরা দেশের জন্য খেলতে এসেছি। দেশের মানুষের প্রত্যাশা থাকবে, কিন্তু আমরা কোনো চাপ বহন করছি না।”

এই আসরে সামনে আছে আরও বড় প্রণোদনা। তিনটি গ্রুপের প্রতিটি থেকে শীর্ষ দুই দল এবং সেরা দুটি তৃতীয় স্থানধারী দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। পাশাপাশি সেরা ছয় দল নিশ্চিত করবে ২০২৭ ফিফা ওমেন্স ওয়ার্ল্ড কাপে খেলার টিকিট, যা হবে ব্রাজিলে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, যিনি বর্তমানে সিডনিতে দলের সঙ্গে আছেন, বিশ্বাস রাখছেন সম্ভাবনায়।

“আমরা ইতোমধ্যেই ইতিহাস গড়েছি, কাল আরেকটি ইতিহাস গড়ার আশা করছি। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সেরা দুটি তৃতীয় স্থানধারী দলও উঠবে। তাই শেষ গ্রুপ ম্যাচ, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের সুযোগ থাকবে,” বলেন তিনি।