নারী এশিয়ান কাপ

‘বড় ধরনের বিপর্যয়’ এড়াতে কাজ করছে বাংলাদেশ দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এএফসি নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে বড় বিপর্যয় এড়াতে এবং ভুল কমিয়ে আনতে কৌশলগত শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

রোববার ১২টি দল নিয়ে এই মহাদেশীয় আসর শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকরা ১-০ গোলে হারিয়েছে ফিলিপাইনকে। আগামী মঙ্গলবার ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নারী এশিয়ান কাপে অভিষেক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের।

জুবিলি স্টেডিয়ামে দেড় ঘণ্টার অনুশীলন শেষে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের গোলরক্ষক কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল জানান, চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের শক্তিমত্তা বিশ্লেষণ করছেন। পাশাপাশি এশিয়ার সর্বোচ্চ ফুটবল আসরে জায়গা করে নেওয়ার পর থেকেই নিজেদের দুর্বলতা কাটাতে কাজ করছেন তারা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় উজ্জ্বল বলেন, 'এমন আসরে বড় দল-ছোট দল বলতে কিছু নেই। টেকনিক্যালি যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হই বাংলাদেশের মেয়েদের নিয়ে, সেগুলোর ওপর জোর দিচ্ছি। ওরা যদি মূল বিষয়গুলো ঠিক রাখে, তাহলে মিস করার চান্স কম। সারা বছর ধরে আমরা যে বিষয়গুলো শিখেছি, তা যদি মাঠে করতে পারি, তাহলে আমাদের ভুল-ভ্রান্তি কম হবে। আর ভুল-ভ্রান্তি কম হলে, গোল খাওয়ার শঙ্কা কমে আসবে।'

এই প্রতিযোগিতার রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনকে আটকাতে নিজেদের রক্ষণভাগকে কিছুটা নিচে রেখে খেলার পরিকল্পনার জানিয়ে তিনি যোগ করেন, 'আমরা যখন এশিয়ান কাপের চূড়ান্তপর্বে কোয়ালিফাই করেছি, যখন গ্রুপিং হয়েছে, তখন থেকেই চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান নিয়ে আমাদের কাজ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের ম্যাচ দেখছি, ওদের শক্তি-দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি।'

তিনি আরও বলেন 'এমনকি আজকের অনুশীলন সেশনও প্রতিটি বিভাগে সব খেলোয়াড়কে তাদের দায়িত্ব বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমরা যদি প্রতিটি বিষয় সঠিকভাবে করতে পারি, আমাদের ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে আমরা বেঁচে যাব।'

দূরপাল্লার শট ও বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে আসা আক্রমণ সামলাতেও ঘাম ঝরাচ্ছে বাংলাদেশ। এই প্রসঙ্গে উজ্জ্বলের ভাষ্য, 'দূরপাল্লার শটের প্র্যাকটিসটা অনেক আগে থেকে করছি। গ্রুপিং হওয়ার পর থেকে দেখেছি চীন কোত্থেকে অন টার্গেট শুটিং করে বা কোন কোন অ্যাঙ্গেল থেকে কীভাবে ফিনিশিং টাচগুলো করে। তাই ওগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ভালো কাজও হয়েছে। দূরপাল্লার শটে আমার মনে হয় না খুব একটা সমস্যা হবে।'

দলের খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা নিয়ে বেশ আশাবাদী বাংলাদেশের গোলরক্ষক কোচ। তিনি বিশ্বাস করেন, মেয়েরা কোনো ভয় ছাড়াই সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তৈরি।

এই কোচিং স্টাফের মতে, 'আমাদের এই মেয়েগুলোকে নিয়ে অনুমান করা খুবই কঠিন। আপনারা চিন্তাও করতে পারবেন না ওরা কার সঙ্গে কী করে ফেলবে। আমি যতটুকু দেখছি, এই অনুশীলন সেশনগুলোয় ওরা খুবই ইতিবাচক। ওদের মনে ভয় কাজ করে না। আসলে এই মঞ্চে আমরা সমস্যার মুখোমুখি হব, এটা মাথায় নিয়েই এখানে এসেছি। এখন এই পর্যায়ে যদি সমস্যার মুখোমুখি হই, এটা নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করার সুযোগ পাব।'

তিনি যোগ করেন, 'এখানে এশিয়ার মঞ্চে ভালো কিছু করতে পারলে ওদের সামনে বিশ্বের অনেক জায়গার দরজা খুলে যাবে। তাই মেয়েরা সবকিছু ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে। ওরা চাপ মনে করছে না। যেটা আমাদের খুব আশা দেখাচ্ছে।'