শীর্ষে থেকেও স্বস্তি নেই বার্সার, চিন্তার কারণ স্ট্রাইকাররা
লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করতে শনিবার ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামছে বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষ উড়ন্ত ফর্মে থাকা ভিয়ারিয়াল। কিন্তু ম্যাচের আগে কাতালান শিবিরে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, দলের প্রধান দুই স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদোভস্কি ও ফেরান তোরেসের গোলখরা।
কোচ হানসি ফ্লিক পুরো মৌসুমে এই দুই ফরোয়ার্ডকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছেন, কিন্তু কেউই পুরোপুরি আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। ৩৭ বছর বয়সী লেভানদোভস্কির পারফরম্যান্স এ মৌসুমে দ্রুত নিচে নেমেছে, সঙ্গে ছিল কিছু ফিটনেস সমস্যাও। অন্যদিকে ২৫ বছর বয়সী তোরেস ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ গোলের পথে থাকলেও তার বেশিরভাগ গোল এসেছে গত বছরে স্বল্প সময়ের দুর্দান্ত ফর্মে।
২০২৬ সালে উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়া দারুণ খেললেও তাদের মাঝখানে যেই খেলছেন, তিনি গোল করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তোরেস সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৫ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৩ গোল; আক্রমণ গড়ার সময় বল ধরে রাখা বা পাস সংযোগেও তার দুর্বলতা স্পষ্ট। লেভানদোভস্কির শেষ ১৮ ম্যাচে গোল ৫টি, তবে আগের মতো গতিশীলতা নেই এবং অনেক সময় ম্যাচে প্রভাবহীন দেখায়।
পোলিশ সাময়িকী পিলকা নোজন্যাকে লেভানদোভস্কি বলেন, “এত ম্যাচের মাঝে রোটেশন স্বাভাবিক। এতে ফেরান আর আমি দুজনই উপকৃত হতে পারি। প্রতি তিন দিনে ৯০ মিনিট খেললে পুরো জীবনই হয়ে যায় পুনরুদ্ধার নিয়ে, এখন ভারসাম্য কিছুটা ভালো। আমি ক্লান্ত, কিন্তু ভেঙে পড়িনি।”
রক্ষণেও সমস্যা রয়েছে বার্সার। তাদের উচ্চ ডিফেন্স লাইন প্রতিপক্ষ বারবার ভেঙে ফেলছে। গত মৌসুমে আক্রমণের শক্তিতে সেই দুর্বলতা ঢাকা পড়েছিল এবং তারা ঘরোয়া ট্রেবল জিতেছিল, কিন্তু এবার গোলের ধার কমে যাওয়ায় সেই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট।
তবু গোলসংখ্যার দিক থেকে লিগে এখনও এগিয়ে বার্সা, ৬৭ গোল করেছে দলটি। তবে গোল এসেছে নানা দিক থেকে; অন্তত ১০ জন খেলোয়াড় ২ বা তার বেশি গোল করেছেন, কিন্তু কারও গোলসংখ্যা তোরেসের ১২টির বেশি নয়।
এর বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে হাঁটুর সমস্যায় ভুগলেও স্পেনের লিগে ২৩ গোল করে শীর্ষে, আর চ্যাম্পিয়নস লিগে করেছেন ১৩ গোল। জানুয়ারিতে ফ্লিক নিজেই স্বীকার করেছিলেন, “এমবাপে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার, সে অসংখ্য গোল করেছে এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়।”
বর্তমানে লা লিগায় এক পয়েন্ট ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে বার্সা। সোমবার গেতাফের বিপক্ষে খেলবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ, ফলে শীর্ষ লড়াই আরও জমে উঠেছে।
স্ট্রাইকার সংকটে ইংল্যান্ডের মার্কাস রাশফোর্ডকে খুব বেশি ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে ব্যবহার করেননি ফ্লিক; তিনি বাম প্রান্তে খেলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। তবে চোট কাটিয়ে রাফিনিয়া ফেরায় রাশফোর্ড হয়তো বেশি সময় পাওয়ার আশায় কেন্দ্রে খেলতে রাজি হতে পারেন। এই মৌসুমে তিনি কার্যকর হলেও গোলের চেয়ে অ্যাসিস্টেই বেশি অবদান রেখেছেন, ৩৪ ম্যাচে ১০ গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১৩ গোল।
চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফে না খেলায় বার্সা সম্প্রতি কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছে। ফ্লিক আশা করছেন, এই তুলনামূলক শান্ত দুই সপ্তাহ দলকে নতুন করে ছন্দে ফিরতে সাহায্য করবে। তার ভাষায়, “এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশ্রাম নেওয়া এবং ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়া দুটোই দরকার।”
লিগ টেবিলে বার্সার চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে ভিয়ারিয়াল। শিরোপার আশা ক্ষীণ হলেও ক্যাম্প ন্যুতে চমক দেখাতে পারলে সেই স্বপ্ন আবারও জেগে উঠতে পারে। আর বার্সার জন্য এটি কেবল তিন পয়েন্টের ম্যাচ নয়, স্ট্রাইকারদের গোলখরা কাটানোরও বড় পরীক্ষা।