বিপিএল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটাররা ‘দোষীও নন, নির্দোষও নন’

স্পোর্টস ডেস্ক

ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট অনিয়মের সন্দেহে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গত আসরের নিলাম থেকে বাদ পড়েছিলেন কয়েকজন ক্রিকেটার। সেই সিদ্ধান্তের পর তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ারও অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিল। তবে তাদের জন্য সব দরজা বন্ধ করে দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তদন্তের আওতায় থাকা এসব ক্রিকেটার অন্য ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবেন, জানিয়েছেন বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শাল। যদিও তাঁরা এখনো পুরোপুরি অভিযোগমুক্তও নন।

শনিবার মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্শাল পরিষ্কার করে দিয়েছেন, বিপিএলের দ্বাদশ আসর থেকে ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার তাঁর সুপারিশটি শুধু ওই টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। অন্য কোনো ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলার ওপর তাঁদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

গত বছরের নভেম্বরে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের খেলোয়াড় নিলামের এক দিন আগে আগের আসরে ফিক্সিং-সংশ্লিষ্ট অনিয়মে জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজন স্থানীয় ক্রিকেটারকে নিলামের তালিকা থেকে বাদ দেয় বিসিবি। বিসিবির তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ‘রেড-ফ্ল্যাগড’ হওয়া ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের বিপিএল ১২-এর নিলামে না রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন মার্শাল।

তবে সেটি কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি। মার্শাল বলেন, ‘কাউকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে আমি যে পরামর্শ দিয়েছিলাম, সেটা নয়জনের জন্য ছিল না; সংখ্যাটা আরও বেশি ছিল। তবে সেটি নির্দিষ্টভাবে বিপিএল ১২-এর জন্য। কোনো ক্রিকেটার বর্তমানে অভিযুক্ত না হলে তার ক্রিকেট খেলার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তাই তারা খেলার জন্য মুক্ত।’

এরই মধ্যে ওই ক্রিকেটারদের কয়েকজন বিসিবি আয়োজিত বিভিন্ন ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলেছেন। তাঁদের একজন আবার জাতীয় দলের হয়েও মাঠে নেমেছেন।

তবে এর অর্থ কি তারা ফিক্সিংয়ের অভিযোগ থেকে পুরোপুরি মুক্ত? প্রশ্নটি করা হয়েছিল বিসিবির আইনজীবী ও দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহিন এম রহমানকে। তার উত্তর আরও বেশি ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘তারা দোষীও নন, নির্দোষও নন।’

অর্থাৎ, বিপিএল থেকে বাদ পড়া মানেই তাদের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, এমন নয়। আবার তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সন্দেহও পুরোপুরি মুছে যায়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা খেলতে পারছেন, কিন্তু তাদের বিষয়ে তদন্তের দরজাও বন্ধ হয়নি।

মার্শাল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধির বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর বিসিবির সাবেক এক পরিচালকসহ আরও দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানানো হয়।

তদন্ত অবশ্য সেখানেই থেমে নেই। সামনে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্শাল। তার ভাষায়, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের কয়েকজন ইতিমধ্যে অভিযোগ স্বীকার করেছেন এবং সম্মত শাস্তির অপেক্ষায় আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমরা আটটি মামলা ঘোষণা করেছি। আরও কিছু মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কিছু ঘোষণা দেখতে পারেন।’