রিজওয়ান-ইমামদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার নয়: হেসন

স্পোর্টস ডেস্ক

পাকিস্তান ক্রিকেটে একের পর এক নাটকীয় সিদ্ধান্তের পর এবার মুখ খুললেন মাইক হেসন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে পাকিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ জানিয়ে দিয়েছেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হককে দল থেকে বাদ দেওয়ার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ওই তিন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। এরপরই পিসিবি এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি টেস্ট দলের কোচ সারফরাজ আহমেদ ও পেস বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

সেই সিদ্ধান্তের পর তৃতীয় টেস্টের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের সাদা বলের দলের কোচ হেসনকে। তবে রিজওয়ান, সালমান ও ইমামকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

বার্মিংহামে সংবাদ সম্মেলনে হেসন বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যখন আমাকে শেষ টেস্টের দায়িত্ব নিতে পারব কি না জিজ্ঞেস করেছিল, তখন এই তিনজন, রিজওয়ান, আগা ও ইমাম ইতিমধ্যে দল থেকে বাদ পড়ে দেশে ফেরার পথে ছিল। তাই সেখানে আসলে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আমি সত্যিই জানি না।’

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলে কিছু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিজের মতামত ছিল বলে জানিয়েছেন হেসন, ‘আমাদের ইতিমধ্যে লাহোরে একটি সাদা বলের ক্যাম্প হয়েছিল। এশিয়ান গেমসের কারণে আমি জাপান থেকে ফিরেছিলাম। এরপর আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আমি লাল বলের দলের দায়িত্ব নিতে পারব কি না।’

এরপরই নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী দলে কিছু পরিবর্তন করেন তিনি, ‘আমি দলে ভারসাম্য আনার জন্য কিছু পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মূল গুরুত্ব ছিল এমন একটি বোলিং আক্রমণ তৈরি করা, যেখানে বৈচিত্র্য থাকবে এবং কয়েকজন বোলিং অলরাউন্ডারও থাকবে।’

এদিকে গত কয়েক দিনে দলে এত বেশি পরিবর্তন হওয়ায় ক্রিকেটারদের জন্য পরিস্থিতি যে সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছেন হেসন। কখনো কেউ দলে আসছেন, আবার কেউ দেশে ফিরে যাচ্ছেন, তাতে দলীয় হোটেলেই তৈরি হয়েছিল এক ধরনের অস্থিরতা।

হেসন বলেন, ‘গত কয়েকটা দিন বেশ কঠিন ছিল। হোটেলে একদিকে কিছু খেলোয়াড় আসছে, অন্যদিকে কেউ চলে যাচ্ছে, এরপর আবার সবাই এসে যোগ দিচ্ছে।’

পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা অবশ্য এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তার চেয়ে বেশি অভ্যস্ত বলেই মনে করেন হেসন, ‘ছেলেরা সম্ভবত আমার চেয়ে একটু বেশি বিশৃঙ্খলার সঙ্গে অভ্যস্ত। কোনো সন্দেহ নেই, তারা হতাশ হয়েছে, ভীষণ হতাশ হয়েছে। কিন্তু আমাদের সেই বিষয়টা এক পাশে সরিয়ে রেখে বলতে হয়েছে, ঠিক আছে, এখন এখান থেকে আমাদের কোথায় যেতে হবে?’

তার দাবি, সেই ধাক্কা সামলে ক্রিকেটাররা এখন তৃতীয় টেস্টের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন। ‘গত কয়েক দিনে তারা সত্যিই ভালো ছিল,’ বলেন হেসন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ ইতিমধ্যে ২-০ ব্যবধানে হেরে গেছে পাকিস্তান। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট।