শরিফুল-স্টার্কের ৬ উইকেটের দিনে ম্যাকাইতে যতো রেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক

ম্যাকাইতে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটা যেন ছিল পেসারদের দাপট আর রেকর্ড ভাঙা-গড়ার দিন। দুই দলের ১৮ উইকেট পতনের দিনে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও শরিফুল ইসলাম। দুজনেই পেয়েছেন ছয় উইকেটের দেখা।

ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশকে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে দিন শেষে ১০১ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা।

স্টার্ক ও শরিফুল গতিময় বোলিংয়ের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে প্রথম দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি বেশ কিছু রেকর্ড ও মাইলফলকও গড়েছেন তারা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ম্যাকাইতে ব্যস্ততম দিনের উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলো—

* ম্যাকাইতে প্রথম দিনে মোট ১৮ উইকেটের পতন হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো টেস্টের প্রথম দিনে উইকেট পতনের হিসাবে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। সর্বশেষ অ্যাশেজের মেলবোর্ন টেস্টের প্রথম দিনে ২০টি উইকেট পড়েছিল। এর আগে পার্থে পড়েছিল ১৯ উইকেট।

*ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে আউট করেন মিচেল স্টার্ক। টেস্টের উদ্বোধনী বলেই উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি স্টার্কের চতুর্থ ঘটনা। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেদ্রো কলিন্স, যিনি তিনবার এমন কীর্তি গড়েছেন। তিনবারই তার শিকার ছিলেন বাংলাদেশের ওপেনার হান্নান সরকার।

*টেস্টের প্রথম ওভারেই উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছেন স্টার্ক। মোট নয়বার টেস্টের প্রথম ওভারে উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন আটবার নিয়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে।

*ম্যাকাইতে ৬ উইকেট নিতে গিয়ে টেস্টে স্টার্কের মোট উইকেটসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪১-এ। এর মাধ্যমে সর্বকালের টেস্ট উইকেটশিকারিদের সেরা দশে ঢুকে পড়েছেন তিনি। পেছনে ফেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইনকে, যার টেস্ট উইকেট ৪৩৯টি।

*মাত্র ২২ বলে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেছেন স্টার্ক। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার দ্বিতীয় দ্রুততম পাঁচ উইকেট এবং সব মিলিয়ে ষষ্ঠ দ্রুততম। তবে দ্রুততম পাঁচ উইকেটের রেকর্ডটিও স্টার্কের দখলে। ২০২৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

*প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ইনিংস।

*শরিফুল ইসলাম ব্যাট হাতে করেছেন ১৪ রান। এরপর বল হাতে নিয়েছেন ৬ উইকেট। এর ফলে একই টেস্টে ১১ নম্বরে ব্যাট করে দলের সর্বোচ্চ রান করার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার হয়েছেন তিনি।

*১৪ রান করে শরিফুল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটারও হয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে এমন ঘটনা অবশ্য দ্বিতীয়বার। ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে ১১ নম্বরে ব্যাট করে ৩১ রান করেছিলেন তালহা জুবায়ের। সেই ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১২৪ রান।

*অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের পঞ্চম বোলার হয়েছেন শরিফুল। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন আরও চার বাংলাদেশি বোলার। তাদের মধ্যে সাকিব আল হাসান ২০১৭ সালে মিরপুর টেস্টে দুই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন।

*মাত্র ৮.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেছেন শরিফুল। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম পাঁচ উইকেট। রেকর্ডটি তাইজুল ইসলামের দখলে। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৬.৫ ওভারেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল।

*৬ উইকেটে ৩৫ রান, টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে এটাই শরিফুল ইসলামের সেরা বোলিং। একই সঙ্গে এটি টেস্টে তার প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। এর আগে টেস্টে তার সেরা বোলিং ছিল ৩ উইকেটে ২৮ রান। ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ওই পারফরম্যান্স করেছিলেন তিনি।