তৃতীয় দিন শেষেও চালকের আসনে বাংলাদেশ
বল হাতে আবারও দারুণ শুরু পাইয়ে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। তবে আবারও প্রতিরোধ গড়ে একটু চিন্তা বাড়াচ্ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। পাহাড় ডিঙানোর চ্যালেঞ্জে অবশেষে পেরে ওঠেননি অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটার। তার বিদায়ের পর তৃতীয় দিনেও চালকের আসন ধরে রেখেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শনিবার ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অজিদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। ইনিংস হার এড়াতেই এখনো তাদের চাই ৬৭ রান।
২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন হাসান। জ্যাক ওয়েদারল্ড স্টাম্পে বল টেনে বোল্ড হয়ে যান কোনো রান না করেই।
ট্রেভিস হেড থিতু হয়ে গিয়েছিলেন মনে হচ্ছিল। তিন বাউন্ডারিতে রানে ফেরার আভাস দিচ্ছিলেন তিনি। তবে থিতু হয়ে বাড়তে পারেননি। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তাকে কাবু করেন হাসানই। এবার অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়েছিলেন। কাট করার জন্য যথেষ্ট ওপরে বল পাননি। বল তাঁর ব্যাটের নিচের দিকে লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ৩৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
ইবাদত হোসেনের বলে স্টিভ স্মিথকে কট বিহাইন্ড আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে তিনি রক্ষা পান। চা-বিরতি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫১।
শেষ সেশনে ফিরে মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারেননি স্মিথ। লাবুশেন আউট হন তাইজুল ইসলামের নিরীহ এক বলে। সোজা বলে আয়েশি ঢঙে ফ্লিক করতে গিয়ে বোল্ড হন ছন্দহীন ব্যাটার। ৫৯ বলে তাঁর ৩১ রানের বিদায়ে ভাঙে ৩৬ রানের জুটি।
এরপর ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে ভালোই এগোচ্ছিলেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসের চেয়েও বেশ সাবলীল লাগছিল তাঁকে। দিনের শেষ ঘণ্টায় তাঁর বিদায়ও ক্যাজুয়াল শটে। মেহেদী হাসান মিরাজের বল মিড অনে ঠেলে সিঙ্গেল বের করতে গিয়ে তুলে দেন ক্যাচ। এই জুটিও থামে ঠিক ৪৯ রানে।
৮৮ বলে ৪৪ করা স্মিথের বিদায় যেন ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে যায় তখন। বাংলাদেশও টের পেয়ে যায় এই টেস্টটা আসলে তাদের।
দলের প্রবল চাপে দিনের বাকিটা পার করেছেন ক্যামেরন গ্রিন আর আলেক্স কেয়ারি। ৩৯ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন আছেন তারা। গ্রিন ৪৩ ও কেয়ারি ১৯ রানে অপরাজিত।
অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে কিছুটা প্রতিরোধ এলেও ম্যাচ এখনো বেশ ভালোভাবেই বাংলাদেশের মুঠোয়। চতুর্থ দিন সকালে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলে দেশের ক্রিকেটে ধরা দিবে ঐতিহাসিক ক্ষণ।
