খালেদ মাহমুদকে স্টিভ ওয়াহ বলেছিলেন, ‘হুকসের মন্তব্য পাগলের প্রলাপ’
২৩ বছর আগে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গিয়ে মাঠে নামার আগেই বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়েছিলো বাংলাদেশ। তখনকার সদ্য টেস্ট মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশ, পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দাঁড়াতেই পারবে না বলে বেশিরভাগের অনুমান। তবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডেভিড হুকস তো বাংলাদেশের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নিয়ে দেখিয়েছিলেন কীভাবে একদিনেই টেস্ট শেষ করতে পারে অজিরা। তবে তখনকার অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহরই পছন্দ হয়নি ওই আগ্রাসী মন্তব্য।
হুকসের সেই কলাম আর সেদিনের সেই স্মৃতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবজকে সেই সিরিজের বাংলাদেশ অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘ডারউইনে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে একটি গেট-টুগেদার ছিল, আমরা সন্ধ্যায় চা খাচ্ছিলাম। আমরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে গল্প করছিলাম, এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে স্টিভ ওয়াহ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি কেমন আছি?
“পরে তিনি (ওয়াহ) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কি সংবাদপত্র পড়ো?’ আমি বললাম, ‘সাধারণত নয়, তবে মাঝে মাঝে দেখি।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি ডেভিড হুকসের মন্তব্য পড়েছ?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, পড়েছি।’”
“তিনি আমাদের বললেন, ‘এ নিয়ে চিন্তা কোরো না। এটা একটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া কিছু নয়। আমি বিশ্বাস করি তোমরা এর চেয়ে অনেক ভালো দল এবং আমাদের বিরুদ্ধে ভালো খেলবে। তোমাদের জন্য শুভকামনা।’”
ডারউইনের ভিন্ন আমেজ ও মাঠের পেশাদারিত্ব
ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন টেস্টের কড়া নজরদারি বা বাড়তি উন্মাদনা থেকে দূরে ডারউইনের পরিবেশটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ভাষায়, টপ অ্যান্ডের সেই সতেজ আমেজ ও শিথিল পরিবেশ দলের মধ্যে এক অন্যরকম রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দিয়েছিল।
তবে মাঠের বাইরের সেই শিথিল আবহ কিংবা বাংলাদেশ দলের প্রতি স্টিভ ওয়াহর এই সৌজন্যমূলক আচরণ কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে বিন্দুমাত্র শিথিলতা আনেনি। বিশাল শক্তির পার্থক্যের পরও তৎকালীন বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি।
সেদিনের মাঠের আমেজ ও প্রতিপক্ষের মনোভাব নিয়ে খালেদ মাহমুদ আরও যোগ করেন, ‘আমরা শুনেছিলাম অস্ট্রেলিয়ানরা প্রচুর স্লেজিং করে, কিন্তু মাঠে আমরা তার কিছুই দেখিনি। স্টিভ ওয়াহর দল স্লেজিংয়ের ধারেকাছেও যায়নি।’
এমনকি আমাদের মতো একটি দুর্বল ও অনভিজ্ঞ দলের বিরুদ্ধেও তাদের মনোযোগ ও মানসিকতা ছিল ১০০% পেশাদার। তারা কোনো বাজে বল করেনি—ফুল টস, হাফ ভলি, ওভার পিচ বা শর্ট অফ লেন্থ। তারা শতভাগ পেশাদার মনোভাব নিয়ে খেলেছিল।’