বাংলাদেশের বিপক্ষেই কপিলকে ছাড়ানোর হাতছানি স্টার্কের
বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজটি মিচেল স্টার্কের জন্য হতে যাচ্ছে শুধু আরেকটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উঁচুতে তোলার সুযোগ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে মাত্র দুই উইকেট পেলেই ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবকে ছাড়িয়ে যাবেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি এই পেসার।
বর্তমানে স্টার্কের টেস্ট উইকেট ৪৩৩টি। কপিল দেবের উইকেট ৪৩৪টি। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি উইকেট নিলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ভারতীয় কিংবদন্তিকে, আর দুটি উইকেট পেলেই তাকে ছাড়িয়ে যাবেন। এরপর সামনে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেটের মাইলফলক।
স্টেইনকেও ছাড়িয়ে গেলে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় সেরা দশে ঢুকে পড়বেন ৩৬ বছর বয়সী স্টার্ক। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেই ইতিহাসের পাতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি রয়েছে তার সামনে।
তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না স্টার্ক। বরং অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখা। রেকর্ডের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, 'এর মানে হলো, আমি বেশ কিছুদিন ধরে খেলছি। ওই খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার নাম উচ্চারিত হচ্ছে, এটা দারুণ এবং খুবই সম্মানের। তবে আপনি যখন এখনও খেলছেন, তখন এসব খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সামনে অনেক দূর এগিয়ে ভাবতে পারবেন না।'
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের পর তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন সব পরীক্ষা। অক্টোবর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে তিন টেস্টের সিরিজ, এরপর বছরের শেষ দিকে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট এবং পরে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি।
এই ব্যস্ত সূচির মধ্যেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন স্টার্ক। চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এখন পর্যন্ত ৮ টেস্টে ৪৬ উইকেট নিয়ে তিনিই সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজেও দুই দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।
বয়স ৩৬ পেরোলেও পারফরম্যান্সে তার ছাপ পড়েনি। বরং দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বোলিংয়ে নতুন কিছু যোগ করেছেন তিনি। বয়সের সঙ্গে নিজের শরীরের ওপর আস্থা রাখাটাও এখন তার বড় শক্তি।
স্টার্ক বলেন, 'আপনার বয়স যখন ৩৬ এবং ১৬ বছর ধরে খেলছেন, তখন আশা করতেই পারেন যে কোনো না কোনো জায়গায় আপনার উন্নতি হয়েছে। এতদিন টিকে থাকার কারণও হলো আপনি শিখতে, মানিয়ে নিতে এবং উন্নতি করতে পারেন।'
বোলিংয়ে পরিবর্তনের কথাও জানিয়েছেন তিনি। স্টার্কের ভাষায়, 'এর সঙ্গে ওয়াবল সিম, ধারাবাহিকতা এবং আরও কিছু বিষয় যোগ হয়েছে। এসব নিয়ে আমার মানসিকতা বেশ পরিষ্কার।'