অ্যাশেজের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশকে একমাত্র টেস্টে ডাকছে ইংল্যান্ড
২০১০ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে আর টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের। দীর্ঘ দেড় দশক পর আবার দেশটির কন্ডিশনে টেস্ট খেলার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত অ্যাশেজের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশকে আগামী গ্রীষ্মে একটি একমাত্র টেস্টের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এই খবর প্রকাশ করে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মে মাসের শেষ দিকে লর্ডস বা অন্য কোন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে এই ম্যাচ।
টেস্টটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে তা অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এর পরের মাসেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনাল আয়োজন করবে ইসিবি। সেই ফাইনাল তারা কোন ভেন্যুতে দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ ম্যাচের ভাগ্য।
২০৩১ সাল পর্যন্ত দ্বিবার্ষিক ভিত্তিতে পরবর্তী তিনটি ডব্লিউটিসি ফাইনাল আয়োজনের জন্য ইসিবির সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চুক্তি রয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, ফাইনাল হতে হবে লন্ডনে। গত দুটি আসরের পর এবারও লর্ডসকেই এর জন্য নির্ধারিত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভেন্যুটির পিচ নিয়ে খোদ ইসিবির মধ্যেই কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কদিন আগেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টটি মাত্র ১৬৬ ওভারের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। উইকেট বোলারদের জন্য এতটাই অসম মাত্রায় সহায়ক ছিল যে, পরে আইসিসি থেকে ডিমেরিট পয়েন্টও পেতে হয়েছে লর্ডসকে। এই পিচ জটিলতার কারণে ইসিবি ফাইনালটি ওভালে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
এদিকে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) সঙ্গে ইসিবির চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি গ্রীষ্মে লর্ডসে কমপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করতেই হবে। ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল যদি ওভালে চলে যায়, তবে সেই কোটা পূরণ করতে লর্ডসে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টটি খেলবে ইংল্যান্ড।
গার্ডিয়ান আরও উল্লেখ করেছে, প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়াটা কিছুটা বিস্ময়ও জাগাতে পারে। কারণ ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতেই দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ইংল্যান্ডের; যার ভেন্যু ঢাকা ও চট্টগ্রাম।
এর বাইরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক অ্যাশেজ সিরিজ ছাড়াও একটি ১৫০তম বর্ষপূর্তি টেস্ট খেলবে ইংলিশরা। ফলে সব মিলিয়ে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া—এই দুই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই টানা ৯টি টেস্ট খেলতে হবে তাদের।