বাবর ফেরায় আশা দেখছে পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে

ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে পাকিস্তান দল। বৃষ্টির থামার অপেক্ষা করে বিফল হয়ে পরে ইনডোরে অনুশীলন সেরেছে তারা। বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে থাকায় কোণঠাসা অবস্থার মাঝে পুরোদমে অনুশীলন করতে না পারার অস্বস্তি যুক্ত হয়েছে। তবে তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর বাবর আজমের ফেরা। পাকিস্তানের এই দলের সেরা ব্যাটার খেলার জন্য তৈরি। পাকিস্তানও প্রতিকূলতার মাঝে ফিরতে মরিয়া।

হাঁটুর চোটে মিরপুর টেস্টের আগের রাতে ছিটকে গিয়েছিলেন বাবর। সেই চোট কাটিয়ে মিরপুর টেস্ট চলাকালীনই তাকে ফিট হয়ে ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখা গেছে। শতভাগ ফিট বাবরের ফেরার খবর সংবাদ সম্মেলনে এসেই দিলেন কোচ সরফরাজ আহমেদ।

তিনি কার বদলে ফিরছেন সেটা নিয়ে অবশ্য এক প্রশ্ন। তার জায়গায় খেলা অভিষেক হওয়া তরুণ আব্দুল্লাহ ফজল মিরপুরে দুই ইনিংসেই ফিফটি করেছেন। আরেক অভিষিক্ত আজান আওয়াসও প্রথম ইনিংসে করেন সেঞ্চুরি।

দলের ভরাডুবির মাঝে যারা রান করেছেন তাদের বাদ দেওয়ার অবস্থা নেই। সরফরাজ খোলাসা না করলেও জানা গেছে, পাঁচ ইনিংসে ফিফটি না করা ওপেনার ইমাম-উল হককে বসিয়ে বাবরকে খেলানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে শান মাসুদ করতে পারেন ওপেনিং। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ওপেনিংই করতেন।

যদিও তাঁর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আছে বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা শানের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ১৫ টেস্ট নেতৃত্ব দিয়ে ১১টিতেই হারায় তাঁর অধিনায়কত্বও এখন প্রশ্নের মুখে।

সাবেকদের সমালোচনা প্রসঙ্গে সরফরাজ মুচকি হেসে বললেন, ‘আপনারা আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়দের সমালোচনা নিয়ে কথা বলছেন? এটি আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। নিশ্চিতভাবেই আমরা সবাই জানি যে, আমরা যদি ভালো ক্রিকেট না খেলি, তবে সমালোচনা থাকবেই। তাই আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি না; আমাদের লক্ষ্য হলো পরবর্তী ম্যাচ খেলা।’

বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের হারের পরও পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের আবহ সব ঠিকঠাক দেখছেন সরফরাজ। প্রথম টেস্টের তিক্ত স্মৃতি ভুলে সিলেটে সব মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা, ‘দেখুন, এই মুহূর্তে পরিবেশ বেশ ভালো। নিশ্চিতভাবেই প্রথম টেস্ট ম্যাচের পর দল হিসেবে আমরা হতাশ, কিন্তু অতীত তো অতীতই। অতীতে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। তাই আমরা আগের ম্যাচ নিয়ে কথা বলছি না; আমরা আমাদের পরবর্তী ম্যাচের দিকে মনোনিবেশ করেছি এবং ইনশাআল্লাহ আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’

কেবল ব্যাটিং নয়, পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণও আগের টেস্টে ছিল সাদামাটা। মোহাম্মদ আব্বাস ছাড়া কেউই তেমন সমস্যায় ফেলতে পারেননি স্বাগতিকদের। এমনকি পাকিস্তানের পেসারদের গতির ঘাটতি নিয়েও কথা হচ্ছে। 

শাহীন শাহ আফ্রিদি অথবা হাসান আলীর পরিবর্তে খুররম শেহজাদকে খেলানো নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বাঁহাতি ব্যাটারদের আধিক্যের কারণে সফরকারীরা নোমান আলীর জায়গায় সাজিদ খানকে বিবেচনা করতে পারে তারা।

একাদশে যারাই খেলুম, সিনিয়র খেলোয়াড়রা মূল দায়িত্ব কাঁধে নেবেন বলে আশা করছেন সরফরাজ, ‘এখানে আসার পর আমরা দল হিসেবে বসে এসব পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি আশাবাদী যে সিনিয়র খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নেবেন এবং ইনশাআল্লাহ যখন এমন পরিস্থিতি আবার আসবে, তারা দলকে টেনে তুলবেন।’