‘নাহিদের বলে প্রতিপক্ষের ভয় পাওয়া দেখে ভালো লাগে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অফ স্টাম্প খুইয়ে হতভম্ব হয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।  অফ স্টাম্পের বাইরের বলটা দেখেশুনেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নাহিদ রানার ঘন্টায় ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির বলটা বিস্ময় ছড়িয়ে উড়িয়ে দেয় রিজওয়ানের স্টাম্প। একদম শেষ দৃশ্যে শাহীদ আফ্রিদি নাহিদের গোলায় শরীর বাঁচাতেই তুলে দেন ক্যাচ। দুরন্ত শেষ স্পেলে নাহিদের গতির তোড়েই উড়ে যায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের তরুণ পেসারকে প্রতিপক্ষের ভয় পাওয়া দেখে মজা পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। 

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে প্রথম টেস্টে হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের ৭টাই নিয়েছেন পেসাররা। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নেওয়া নাহিদ এক স্পেলেই চার উইকেট নিয়ে শেষ করেছেন খেলা।

৯.৫ ওভারে ৪০ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট। শেষ স্পেলে ৪.৫ ওভার করে স্রেফ ১০ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। কাউকে বোল্ড, কাউকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ, কাউকে বাউন্সারে কাবু বানিয়েছেন। যেসব বলে উইকেট পাননি তাতেও ছড়িয়েছে আতঙ্ক। 

নাহিদের স্পেলে উজ্জীবিত ছিলো গোটা দল। মাঠে প্রতিপক্ষের কাঁপুনিও ছিলো স্পষ্ট। বাংলাদেশি একজন পেসারের এমন ঝাঁজ উপভোগ করার কথা বললেন শান্ত,  ‘ওটা অনেক উপভোগ করেছি (নাহিদের স্পেল)। প্রতিপক্ষ যেভাবে ভয় পাচ্ছিল এটা দেখতে অবশ্যই ভালো লেগেছে। ও যেভাবে দলের জন্য অবদান রাখছে তাতে আমি খুবই খুশি। আমাদের ইচ্ছা থাকবে ও যেন নিয়মিত এভাবে দলের জন্য অবদান রাখে।‘ 

লাঞ্চের আগে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রানের। শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেন তাসকিন আহমেদ। লাঞ্চের ঠিক আগে প্রথম উইকেটটা নেন তিনিই। পরে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পান আরেকটি। অধিনায়ক শান্ত তাই নাহিদের কথা বলার আগেও তাসকিনের নাম নিয়েছেন, ‘নাহিদের কথা বলার আগে আমি একটু তাসকিনের কথা বলব। আসলে তাসকিন স্টার্টটা দিয়েছিলো। ও যেভাবে টি-র পরে এসে বোলিং শুরু করেছে, ওই চার-পাঁচ ওভারের স্পেলটা আসলে মোমেন্টাম আমাদের দিকে নিয়ে এসেছে। রানার কথা আমরা জানি যে ও কত স্পেশাল এবং কত জোরে বল করে। তার সাথে স্কিলটাও আস্তে আস্তে ডেভেলপ করছে।‘