নতুন আশার আলো নিয়ে শুরু হচ্ছে ডিপিএল
বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা, নতুন উদ্যোগ ও আরও তীব্র প্রতিযোগিতার প্রতিশ্রুতি— সব মিলিয়ে আগামীকাল সোমবার ছয়টি ভেন্যুতে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) ২০২৫-২৬ মৌসুম ঘিরে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর এই টুর্নামেন্ট মাঠে ফেরায় খেলোয়াড়রা আক্ষরিক অর্থেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের কারণে জাতীয় দলের টেস্ট খেলোয়াড়দের ছাড়াই শুরু হবে ডিপিএল। তারা আগামী ২০ মে পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ওয়ানডে ফরম্যাটের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের প্রথম ছয় রাউন্ডে খেলতে পারবেন না।
মাঠের লড়াই আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার সম্ভাবনা এই উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তুলেছে। কাগজে-কলমে অন্তত চারটি দল শিরোপার দৌড়ে থাকায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বিশ্বাস করেন, দলগুলোর শক্তিমত্তার ভারসাম্যই এবার ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
মোসাদ্দেক বলেন, 'প্রিমিয়ার লিগে আগে হয়তো চার বা পাঁচটি দল খুব শক্তিশালী হতো। কিন্তু এই বছর সবাই মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের চেষ্টা করেছে। আবহাওয়া (মেঘলা পরিস্থিতি) যদি এমন থাকে, তবে যে কোনো দিন যে কোনো দলই ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।'
মোহামেডানের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও মিলিয়েছেন একই সুর। 'দল হিসেবে পারফর্ম' করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ায় তিনিও মূলত স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
হৃদয় বলেন, 'এমনকি দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটাররাও সম্প্রতি খেলার সুযোগ পায়নি, যা দুর্ভাগ্যজনক। তাই টুর্নামেন্টটি যে অবশেষে শুরু হচ্ছে, সেটা একটি স্বস্তির বিষয়।'
হৃদয়ের জন্য আশাবাদী হওয়ার আরও একটি কারণ রয়েছে। গত বছরের মৌসুমের ২৬ এপ্রিল একটি ম্যাচ চলাকালীন অসদাচরণের কারণে তাকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)— যা তাকে আবাহনীর বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল। তবে তার নিষেধাজ্ঞার বাকি তিন ম্যাচ এই মৌসুমে আর বহাল থাকছে না।
সিসিডিএম কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ সেলিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটার তারিখ থেকে এক বছরের জন্য হিসাব করা হয়। যেহেতু সেই সময়সীমা পার হয়ে গেছে, তাই সে এখন মুক্তভাবে খেলতে পারবে।'
ভাগ্য ঝুলে থাকায় এবং এক টালমাটাল পরিস্থিতির পর ডিপিএলের এবারের মৌসুমটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে উদ্বেগের জেরে বেশ কয়েকটি ক্লাব লিগ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। তবে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর অচলাবস্থার অবসান ঘটে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পাশাপাশি এবারের আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের এই সাবেক অধিনায়ক।
এদিকে, তামিমের নেতৃত্বাধীন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো প্রতিযোগিতাকে ঘিরে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচ চলাকালীন উন্নত চিকিৎসা সহায়তা, স্বাস্থ্যকর ও ফিটনেসনির্ভর খাবার তালিকা এবং খেলার বিশুদ্ধতার স্বার্থে দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকু) প্রটোকল পুনর্বহাল করা।
উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে ১২টি দল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্সে ঢাকা লেপার্ডসের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। অন্যদিকে, বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে লড়বে গতবারের রানার্সআপ মোহামেডান।
বিসিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সিসিডিএম এবার সুপার লিগ ও রেলিগেশন লিগ পর্ব বাতিল করে সিঙ্গেল লিগ ফরম্যাটে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এবারের লিগে মোট ৬৬টি ম্যাচ খেলা হবে এবং সম্ভাব্য ব্যাঘাত কমানোর জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দল চ্যাম্পিয়ন হবে এবং তলানির দুটি দল প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অবনমিত হবে।