বিস্ফোরক সেঞ্চুরির পর অভিষেকের বিশেষ উদযাপনের নেপথ্যের গল্প
হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গত মঙ্গলবার রাতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলারদের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে দিলেন অভিষেক শর্মা। তবে তার সেই বিধ্বংসী সেঞ্চুরির চেয়েও ড্রেসিংরুম ও গ্যালারিতে বেশি আলোচনা হচ্ছে বিশেষ এক উদযাপন নিয়ে। মাঠের মাঝখানে ব্যাটটিকে শরীরের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রেখে, দুই হাত গুজে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে সেই মুচকি হাসির নেপথ্যে কাজ করেছে গভীর এক আবেগ।
দিল্লির বিপক্ষে কালকের রাতটি ছিল পুরোপুরি এই তরুণ তুর্কির। ভারতের এই উদীয়মান তারকা খেলেন ৬৮ বলে অপরাজিত ১৩৫ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস। ১০টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো এই টর্নেডো ইনিংসে ভর করেই ২৪২ রানের পাহাড় গড়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, যা শেষ পর্যন্ত তাদের ৪৭ রানের জয় নিশ্চিত করে। মজার ব্যাপার হলো, তীব্র গরমের মধ্যে পুরো ২০ ওভার অমন আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং করার পরও অভিষেকের মধ্যে ক্লান্তি দেখা যায়নি।
উদযাপনের ভঙ্গিকে অভিষেক বলছেন ‘L’. নিজের এই বিশেষ ‘L’ উদযাপন প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, এটি মূলত ভক্তদের প্রতি তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি এই বিশেষ উদযাপনটি অনেকদিন ধরেই করছি। এটি আসলে এই স্টেডিয়ামের দর্শকদের প্রতি আমার ভালোবাসা। পুরো টুর্নামেন্টে তারা যেভাবে আমাদের সমর্থন দিচ্ছেন, এমনকি হোটেলের সামনেও যেভাবে ভিড় করেন—সেটার প্রতিদান হিসেবেই এই ভালোবাসা প্রকাশ করতে চেয়েছি।’
এই উদযাপনের মাহাত্ম্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে গ্যালারিতে তার বাবা-মায়ের উপস্থিতি। সেঞ্চুরি করার পথেও বারবার গ্যালারির দিকে তাকাচ্ছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার বাবার সঙ্গে মাঠের ভেতরে এক অদ্ভুত ‘ইশারা-যোগাযোগ’ চলছিল বলে জানান তিনি। অভিষেক বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায় থেকেই বাবা সবসময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকেন। কাল যখন আমি নন-স্ট্রাইকার এন্ডে ছিলাম, বাবা গ্যালারি থেকে ইশারায় বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন কীভাবে খেলতে হবে। আমি তার দিকে তাকাচ্ছিলাম আর তিনি আমাকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। বাবার সামনে এমন পারফর্ম করাটা সত্যিই বিশেষ কিছু।’
বোন অসুস্থতার কারণে মাঠে উপস্থিত থাকতে না পারায় নিজের এই ইনিংস ও উদযাপনটি বোনকেই উৎসর্গ করেছেন অভিষেক। তবে এই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ের পেছনে তিনি বড় কৃতিত্ব দিচ্ছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলের পরিবেশকে। তার ভাষায়, ‘তিন বছর আগে আমার মনে একটা জেদ ছিল নিজের প্রতিভা দেখানোর। তবে ২০২৪ সালে হায়দরাবাদের পরিবেশ আমাদের সবার জন্য গেম-চেইঞ্জার হিসেবে কাজ করেছে। কোচ ও অধিনায়ক যখন বলেন যে তুমি শুধু মাঠে যাও আর নিজেকে প্রকাশ করো, তখন কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।’
পাঞ্জাবি ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে সেই স্বাধীনতা উপভোগ করতেই ভালোবাসেন অভিষেক। দিল্লির বোলারদের শাসন করে করা ১৩৫ রানের এই ইনিংস আর গ্যালারির দিকে ফিরে করা সেই নীরব উদযাপন—সব মিলিয়ে আইপিএলের মঞ্চ কাল এক অনন্য অভিষেকেরই সাক্ষী থাকল।