লিটন-শান্তর পরামর্শে শেষের ওই রিভিউ নিয়েছিলেন মিরাজ
দুই বলে ম্যাচ জিততে পাকিস্তানের তখন দরকার ১২ রান। রিশাদ হোসেনের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলটি শাহীন আফ্রিদি মিস করায় ওয়াইডের সংকেত দিয়েছিলেন অন-ফিল্ড আম্পায়ার। তাতে সফরকারীদের প্রয়োজন নেমে আসে ২ বলে ১১ রানে। অর্থাৎ, তখনও ম্যাচে পাকিস্তান টিকে ছিল। ওই সময় একটি স্মার্ট মুভ বদলে দেয় ম্যাচের ছবি। আউট হবে না জেনেও এলবিডব্লিউর রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। উদ্দেশ্য একটাই—যদি কোথাও স্পর্শ লেগে থাকে, তবে ওয়াইড থেকে বাঁচা যাবে। হলোও তাই।
রিভিউতে দেখা গেল, বল কিপারের কাছে যাওয়ার আগে শাহীনের ব্যাটে স্পর্শ করে গেছে। তার মানে আউট না হলেও সেটি ওয়াইড নয়। ওয়াইড বাতিল হতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। বাংলাদেশের রিভিউ নেওয়া দেখে আপত্তি জানিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি। সম্ভবত কীসের রিভিউ নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চাইছিলেন তিনি। তা ছাড়া সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর রিভিউ নিয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি; তবে তা ধোপে টেকেনি।
ওই বলের পর উইকেটকিপার লিটন দাসকে এসে মিরাজের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। পরে সেখানে নাজমুল হোসেন শান্তসহ অন্যরা যোগ দেন।
১১ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পর অধিনায়ক মিরাজ সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন, এই রিভিউ লিটন ও শান্তর পরামর্শে নিয়েছিলেন তিনি। মিরাজ বলেন, 'রিভিউটা আমরা আলোচনা করে নিয়েছিলাম। লিটন ছিল, শান্ত ছিল। ওরা দুজন বলছিল যে আমাদের রিভিউ আছে, আমরা যেন রিভিউ নিয়ে নিই। কারণ আমরা জানতাম আমাদের দুটি রিভিউ আছে এবং ওটা আমাদের একটা পরিকল্পনার অংশ ছিল।'
মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ২৯০ রান করে অনায়াস জয়ের পথে ছিল বাংলাদেশ। রান তাড়ায় নামা পাকিস্তান ১৭ রানেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানরা ৮২ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বড় জয়ের আভাস দিচ্ছিলেন। তবে সালমান আলি আঘার দারুণ সেঞ্চুরিতে সফরকারীরা ঘুরে দাঁড়ায়।
একপর্যায়ে পাকিস্তানের প্রয়োজন নেমে আসে ৪ ওভারে ৩৯ রান। দোলাচলে থাকা ম্যাচটিতে ওই সময় শঙ্কা ভর করেছিল মিরাজের মনে। তিনি বলেন, 'দেখেন, বিশ্বাস তো অবশ্যই ছিল যে ইনশাআল্লাহ ম্যাচটা জিতব। তবে হ্যাঁ, একটু ভয়ও লেগেছিল কারণ খেলাটা খুব ক্লোজ হয়ে গিয়েছিল। আমরা মিডল ওভারে উইকেটগুলো বের করতে পারিনি। ওখানে আরও কিছু উইকেট নিতে পারলে ভালো হতো।'
সালমানের বিদায়ের পর শেষ দুই ওভারে ২৮ রান দরকার হয় পাকিস্তানের। তখন মোস্তাফিজুর রহমানকে দুই ছক্কা মেরে খেলা জমিয়ে দেন শাহীন। যদিও শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেননি তিনি। পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে সিরিজে হারানো নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।