তিন পক্ষের খেলা, এক ম্যাচের ভেতরে বহু সমীকরণ

স্পোর্টস ডেস্ক

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজকের সুপার এইটের ম্যাচটি কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড। কিন্তু বাস্তবে এটি যেন তিন পক্ষের লড়াই। কারণ মাঠে না নামলেও এই ম্যাচের প্রতিটি রান ও উইকেট গভীর মনোযোগে অনুসরণ করবে পাকিস্তান, তাদের সেমিফাইনালের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে এই ফলের ওপর।

ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। যদিও তাদের জন্য এটি কেবল আনুষ্ঠানিক ম্যাচ নয়; গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। গ্রুপ–২ থেকে শ্রীলঙ্কা ছিটকে পড়ায় দ্বিতীয় সেমিফাইনাল স্পটের লড়াই এখন কেবল নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বুধবার শ্রীলঙ্কাকে ৬১ রানে উড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাক ক্যাপসরা তিন পয়েন্টে পৌঁছেছে। তাদের নেট রান রেটও শক্ত অবস্থানে +৩.০৫০। আজ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে নিউজিল্যান্ড। সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের দুই সেমিফাইনালই অনুষ্ঠিত হবে ভারতে, যা তাদের জন্য কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দলের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার্স আত্মবিশ্বাসী দলের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে। তার মতে, নিউজিল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবে “সমস্যা সমাধানে পারদর্শী” একটি দল, পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে কৌশল বদলাতে জানে। তিনি বলেন, কন্ডিশন পড়ে দ্রুত নিজেদের পদ্ধতি খুঁজে বের করাই তাদের গর্বের জায়গা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ মিলেছে। ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার দলের হাল ধরেন। ধৈর্য ও বিচক্ষণ ব্যাটিংয়ে স্কোর নিয়ে যান ১৬৮/৭ পর্যন্ত, যা পরে জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে আজ যদি ইংল্যান্ড জয় পায়, তখন সমীকরণ ঘুরে যাবে নাটকীয়ভাবে। ইংল্যান্ড ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, আর পাকিস্তানের নিভু-নিভু আশা আবার আলো পাবে।

কিন্তু সেই পথ মোটেও সহজ নয়। সালমান আলি আগা নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের বর্তমান পয়েন্ট মাত্র এক, নেট রান রেট -০.৪৬১। প্রথম শর্ত—ইংল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে জিততে হবে, যাতে নিউজিল্যান্ডের উঁচু নেট রান রেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। দ্বিতীয় শর্ত—পাল্লেকেলেতে আগামীকাল শ্রীলঙ্কাকে হারাতে হবে পাকিস্তানকে, সেটিও বড় ব্যবধানে, যাতে নেট রান রেটে নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে রানার্সআপ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠা যায়।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডও নির্ভার নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের জয়সূচক সেঞ্চুরিতে তারা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে অন্য গ্রুপের রানার্সআপের মুখোমুখি হওয়ার কৌশলগত সুবিধা পাবে তারা। ফলে ম্যাচটি তাদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্র জানেন, সামনে কঠিন পরীক্ষা। তাঁর মতে, কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা থাকলেও ইংল্যান্ডকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। কারণ তাদের ব্যাটিং লাইনআপ জুড়ে রয়েছে বিশ্বমানের তারকা, যারা যে কোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।