ইতালির ক্রিকেটে নতুন যুগ: রোম, মিলান ও বোলোনিয়ায় বিশ্বমানের ম্যাচের স্বপ্ন

ঐতিহাসিক জয়ের আবেগে ভেসে ইতালি এখন নতুন স্বপ্ন বুনছে, একদিন বিশ্বমানের ক্রিকেট ম্যাচ বসবে রোম, মিলান ও বোলোনিয়া শহরে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক আসরে প্রথম জয় পাওয়ার পর দেশটির ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে নতুন আশার আলো।

২০ দলের এই আসরে সর্বনিম্ন র‍্যাঙ্কিং নিয়ে অংশ নেওয়া ইতালি বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ১০ উইকেটের দাপুটে জয়ে উড়িয়ে দেয় নেপালকে। বিশ্বকাপে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই এমন জয় এনে দেয় আবেগঘন মুহূর্ত, ম্যাচ শেষে আনন্দে কেঁদে ফেলেন দলের একাধিক খেলোয়াড়।

সিডনিতে জন্ম নেওয়া মোসকা ভাই জাস্টিন ও অ্যান্থনি ১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে সাত ওভারেরও বেশি হাতে রেখে দলকে এনে দেন স্মরণীয় এই জয়। ম্যাচ জেতানো শট খেলেই ৩৪ বছর বয়সী অ্যান্থনি দু’হাত আকাশের দিকে তুলে উল্লাসে ফেটে পড়েন, চোখে ঝরে আনন্দাশ্রু। ফুটবলের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই সাফল্য তাই তাদের কাছে বিশেষ আবেগের।

স্ট্যান্ড-ইন অধিনায়ক হ্যারি মানেন্তি বলেন, “গ্রুপ পর্বের ম্যাচ জয়ের পর খেলোয়াড়দের মাঠেই কাঁদতে খুব বেশি দেখা যায় না। ইতালিয়ানদের আবেগ আলাদা, আমরা যেখানেই খেলি, সেই আবেগ সঙ্গে নিয়েই খেলি, প্রতিপক্ষ বা টুর্নামেন্টের মান যাই হোক।”

আগামী সোমবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ৭৩ রানে হেরে শুরুটা ভালো না হলেও নেপালকে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইতালি, তাও আবার নিয়মিত অধিনায়ক ওয়েইন ম্যাডসেনকে ছাড়াই, যিনি স্কটল্যান্ড ম্যাচে কাঁধে চোট পেয়ে ছিটকে যান।

ইতালির ক্রিকেট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১,৮০০ ক্রিকেটার ও শতাধিক ক্লাব থাকলেও বড় সমস্যা প্রাকৃতিক টার্ফ উইকেটের অভাব। মানেন্তির আশা, বিশ্বকাপে এই সাফল্য দেশে ক্রিকেটের চেহারা বদলে দেবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক দলগুলোকে ইতালিতে আয়োজক হিসেবে স্বাগত জানানোর পথ খুলে দেবে, যাতে দেশটির স্কুলপড়ুয়া শিশুরা নিজেদের শহরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখতে পারে।

বর্তমানে ইতালি শীতকালীন অলিম্পিকের আবহে ডুবে থাকলেও কোচ জন ডেভিসনের বিশ্বাস, ক্রিকেট দলও শিরোনামে থাকার দাবিদার। তাঁর ভাষায়, “অনেক দেশেই এটি প্রথম পাতার খবর হবে। যদি আমরা এতটাই আলোচনায় আসতে পারি যে শীতকালীন অলিম্পিকের খবরকেও ক্রীড়া পাতার পেছনে ঠেলে দিই, তাহলে ইতালিতে ক্রিকেটের জন্য সেটি হবে অবিশ্বাস্য এক অর্জন।”