সোহানের ঝড়ে ধূমকেতুকে হারিয়ে রুদ্ধশ্বাস জয় দুর্বারের

নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন নুরুল হাসান সোহান। ৪৪ বলে দৃষ্টিনন্দন ৭৬ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংসে ধূমকেতুর বিপক্ষে দুর্বারকে এনে দিলেন রোমাঞ্চকর দুই উইকেটের জয়। অদম্য বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি কাপের দ্বিতীয় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় এক নিখাদ থ্রিলারে।

শুক্রবার শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ধুমকেতু একাদশকে ২ উইকেটে হারিয়েছে দুর্বার একাদশ। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান তিলে ধুমকেতু। জবাবে ৩ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে দুর্বার।

১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্বার এক সময় কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছিল। ১৪তম ওভারে স্কোরবোর্ডে তখন ৮১/৬। পরাজয় তখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল। ঠিক তখনই দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেন সোহান। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৪১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসে প্রাণ ফেরান তিনি।

সাইফউদ্দিন ১৩ বলে দ্রুত ১৯ রান করে আউট হন। তাকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি এই ম্যাচে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলেন। সাইফউদ্দিনের বিদায়ের পর শেষ ওভারগুলোতে দুর্বারের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে যায়।

কিন্তু এখানেই নিজের সেরা রূপ দেখান সোহান। চলতি বছর বিপিএলে আট ইনিংসে মাত্র ৪৯ রান করে ফর্মহীনতায় ভোগা এই উইকেটকিপার-ব্যাটার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন একাই। ১৯তম ওভারে শরিফুল ইসলামের ওপর ঝড় তুলে তোলেন ২৬ রান, চারটি বিশাল ছক্কায় সমীকরণ নামিয়ে আনেন ১২ বলে ৩৩ রান থেকে ৭ বলে মাত্র ৭ রানে।

নাটক এখানেই শেষ হয়নি। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলেই সোহান রানআউট হয়ে ফিরে যান, তখনও প্রয়োজন ছিল ৪ রান। মুহূর্তেই ম্যাচ আবার অনিশ্চয়তায়। তবে চাপ সামলে নেন হাসান মাহমুদ। তৃতীয় বলে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর ওপর নিখুঁত ড্রাইভে চার হাঁকিয়ে তিন বল হাতে রেখেই দুর্বারকে এনে দেন স্মরণীয় জয়।

ধূমকেতুর হয়ে বোলিংয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে একাই ম্যাচে দারুণ প্রভাব রাখেন তিনি।

হারের পরও ধূমকেতু পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই আছে। দুরন্তর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ছয় উইকেটের জয়ের সুবাদে ভালো নেট রানরেট নিয়ে দুই ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। অন্যদিকে দুরন্তর সামনে এখন কঠিন সমীকরণ, শনিবার একই ভেন্যুতে দুর্বারের বিপক্ষে শেষ লিগ ম্যাচে জিততেই হবে, না হলে বিদায় নিশ্চিত।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ধূমকেতু করে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান। অধিনায়ক লিটন দাস আবারও দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন (৩৭ বলে)। মেহেদী হাসান অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। দুর্বারের হয়ে বোলিংয়ে হাসান ও তানভীর ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট।