পুরো রমজানে মাধ্যমিক স্কুল বন্ধে হাইকোর্টের আদেশে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ
রমজান মাসজুড়ে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হাইকোর্টের একটি আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতির এই আদেশের পর সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমজানের প্রথম ১৮ দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আরশাদুর রউফ।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি পাওয়ার পর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এই আদালতে লিভ টু আপিল আবেদন দাখিল করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সরকারের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এই আদেশ দেন।
গতকাল বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরকারকে রমজান মাসজুড়ে সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
তবে এ সময় নির্ধারিত কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিদ্যালয় তা গ্রহণ করারও নির্দেশনা ছিল বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শফিকুর রহমান।
এ ছাড়া রমজানের প্রথম ১৮ দিন সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেন আদালত।
প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মণ্ডলের দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ ও রুল জারি করেছিলেন।
আবেদনে তিনি বলেন, চলতি বছরের পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা খোলা রাখার বিষয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন দিয়েছে।
একটি প্রজ্ঞাপনে সারা দেশের মাদ্রাসাগুলো পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বন্ধ থাকবে বলা হলেও অন্য প্রজ্ঞাপনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো ১৮ রমজান পর্যন্ত খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। এটা বৈষম্যমূলক ও অবৈধ বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
আবেদনের বরাত দিয়ে আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিকই মুসলমান।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রচলন রয়েছে। ১৮ রমজান পর্যন্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখা বৈষম্যমূলক, অবৈধ ও অসাংবিধানিক।
আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।