মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধারে অভিনব উদ্যোগ

ফিলিপ গাইন
ফিলিপ গাইন

টাঙ্গাইলের মধুপুরে শালবন পুনরুদ্ধারে একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। শালবনটিতে একসময় বাঘ, ভালুক, হাতি, ময়ূর, সোনালি হনুমান, শত শত প্রজাতির পাখিসহ নানা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ছিল। অতীতের সেই বনের খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে।

মধুপুর শালবনের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন বিদেশি প্রজাতির আকাশিয়া গাছের কৃত্রিম বনায়ন, আনারস, কলা ও মসলাসহ নানা জাতের ফসলের বাণিজ্যিক আবাদ চলছে। শালবনের যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তাও ছড়ানো ছিটানো।

 

মধুপুর ছাড়াও টাঙ্গাইলের অন্যান্য এলাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে শালবন ধ্বংসের মূল কারণ ১৯৮৯ সাল থেকে সামাজিক বনায়ন এবং ১৯৮৬ সালে শুরু হওয়া রাবার চাষ। এছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও মানুষের বসবাসের জন্য একের পর এক গড়ে তোলা বড় বড় স্থাপনা বনবিনাশ আরও ত্বরান্বিত করেছে।

মধুপুর নিয়ে কয়েক দশক ধরে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে প্রত্যক্ষ করেছি যে, ‘শালগাছ ধীরে ধীরে বাড়ে ও তুলনামূলকভাবে কম উৎপাদনশীল’ এমন বিবেচনা থেকে শাল গাছের জায়গায় দ্রুত বর্ধনশীল এবং বিদেশি প্রজাতির অধিক উৎপাদনশীল ও দ্রুত বর্ধনশীল
ইউক্যালিপটাস ও আকাশিয়া দিয়ে বনায়ন করতে শুরু করে সরকার। এতে পরামর্শ ও অর্থ দুটোই দেয় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক।

জাতীয় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমি বনবিভাগ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বিরাগভাজন হই।

আমি তখন সতর্ক করেছি যে, বিদেশি প্রজাতি দিয়ে বনায়ন করতে গিয়ে প্রাকৃতিক বনের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। প্রাকৃতিক বন ধ্বংস হলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ সহজ শর্তে সরকারকে ঋণ এবং সাহায্য দিয়ে কীভাবে বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে পরিবেশ নিয়ে কাজের পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। যারা পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও কর্মী তারা কীভাবে দাতা সংস্থা এবং সরকারের মাঝে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এ পরিস্থিতিতে হতাশ হয়েছি, কিন্তু হাল ছাড়িনি।

শালবন পুনরুদ্ধারে সরকারের সর্বশেষ উদ্যোগের অবস্থা বুঝতে একাধিকবার মধুপুর ও গাজীপুরে গিয়েছি। এই আলোচনাটি মূলত মধুপুরের অবস্থা নিয়ে। গাজীপুরের অবস্থা নিয়ে অন্য লেখা হবে।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর শালবন পুনরুদ্ধার সর্বশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ওইদিন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দোখলা রেঞ্জের ধরুংপাড় তিলেরতল এলাকায় মো. আমিনুলের সামাজিক বনায়নের প্লটে দুই থেকে তিন বছর বয়সী প্রায় ৪০টি আকাশিয়া গাছ কাটা হয়। সেই স্থানে রোপণ করা হয় দেশীয় ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির চারা।

 

প্লটটির মালিক আমিনুল দোখলা রেঞ্জের বন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারি। বন বিভাগের বরাতে প্লটে নতুন চারা রোপণ করা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এসব গাছ পরিপক্ব হলে সামাজিক বনায়ন নীতিমালা অনুযায়ী নিলাম হবে। গাছ না কেটে একটি মূল্য নির্ধারণ করে লভ্যাংশ সামাজিক বনায়ন কাঠামোর আওতায় বণ্টন করা হবে। কার্বন ট্রেডিং থেকে কত শতাংশ বরাদ্দ করা হবে তা বন বিভাগ আমাদের জানাবে।’

গত ১৬ জানুয়ারি যখন আমিনুলের আড়াই একরের প্লটে যাই, তখন তার প্লটে কেবলই আকাশিয়া ও আনারসের বাগান দেখতে পাই। গত অক্টোবরে লাগানো দেশীয় প্রজাতির গাছের চারার মধ্যে মাত্র দুই-তিনটি চোখে পড়লো, যা ধুলাবালিতে ঢাকা ছিল।

একই দিন তিলেরতালের আরেকটি জায়গা দেখলাম—তৃতীয় আবর্ত শেষে বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আকাশিয়া গাছ কাটা হয়েছে। এসব গাছের সর্বশেষ গুঁড়ি ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। বিশাল এলাকাটির এক কোণে হলুদ ফুলে ভরা সরিষা গাছ, আর কিছু অংশে সদ্য আনারসের চারা রোপণ করা হয়েছে।

অধিকাংশ এলাকায় আনারসের চারা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এক জায়গায় সম্প্রতি আকাশিয়ার মোথা উপড়ে ফেলে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা হয়েছে, যা বনভূমিতে একটি নিষিদ্ধ কার্যক্রম।

বন বিভাগ যদি সত্যিকার অর্থেই শালবন ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আন্তরিক হতো, তাহলে এসব কার্যক্রম সহজেই বন্ধ করা যেত। কিন্তু দুর্নীতির দায়ে ব্যাপকভাবে অভিযুক্ত বন বিভাগ এই ধ্বংসযজ্ঞকে অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে।

মধুপুর শালবন এলাকায় ৪ হাজার ৫৫১ একরের মতো জমিতে সামাজিক বনায়ন হয়েছে বলে বনবিভাগের পরিসংখ্যান বলছে। বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতি দিয়ে সামাজিক বনায়নের প্রভাব যে খুবই ধ্বংসাত্মক হয়েছে, তা বন বিভাগ নিজেই স্বীকার করছে।

বিদেশি প্রজাতি দিয়ে সামাজিক বনায়নের মারাত্মক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ১৫ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশিয়া গাছের চারা রোপণ,উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করে। ইউক্যালিপটাস আগে থেকেই সরকারি বনভূমিতে লাগানো নিষিদ্ধ ছিল।

মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের একটি পরিকল্পনায় আমরা দেখছি—মধুপুরে যে ৪ হাজার ৫৫১ দশমিক ৮৬ একর জমিতে সামাজিক বনায়ন হয়েছে তার মধ্যে ২০২২-২৩ সাল থেকে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে ৩ হাজার ৪০০ দশমিক ৯৫ একরে শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে বন অধিদপ্তর।

আর দখল হয়ে যাওয়া ১২ হাজার ৮৩৫ দশমিক ৮০ একর জমির ৩ হাজার ২১০ একরে শাল জাতীয় গাছ রোপণ করবে ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে। বর্তমানে যে শালবন অবশিষ্ট আছে এবং ২০২৮ সাল নাগাদ যে শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে সব মিলিয়ে সরকারের টার্গেট—মধুপুরে ১৯ হাজার ৯৪১ দশমিক ৯৮ একর বনভূমিতে শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

তবে শালবন পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় বনবিভাগ যেভাবে হাঁকডাক দিচ্ছে তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।

বেরিবাইদ মৌজার মধ্যে দক্ষিণ জাঙ্গালিয়ার ঝাটারবাইদ এলাকায় বন বিভাগের একটি সাইনবোর্ডে উল্লেখ আছে—৫ হেক্টর জমিতে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। বাস্তবে এই ৫ হেক্টর জমি কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত তিনটি পৃথক স্থানে।

এমনই একটি প্লটে বন বিভাগ কোনো ধরনের পরামর্শ বা আলোচনা ছাড়াই এমনি জন্মানো (আপনজালা) প্রায় ৩০টি আকাশিয়া গাছ কেটে সেখানে দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করে। যদিও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের কেউ কেউ কোনো সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ছিলেন না।

মো. মুনাফ মুন্না যৌথভাবে ২ দশমিক ৪ একর জমির মালিক। এই জমিতে তিনি কয়েক দশক ধরে বসবাস করছেন। ১৬ ডিসেম্বর তার প্লটে গিয়ে আনারসের চারার স্তূপ দেখতে পাই। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি আবার যখন সেখানে যাই, তখন পুরো এলাকাজুড়ে আনারসের গাছ লাগানো হয়ে গেছে।

তার স্ত্রী শিরিনা বেগম জানান, তাদের পরিবার ১৯৭১ সালের আগ থেকেই ওই জমিতে ধান, আদা, আনারস, হলুদ, গম ও সরিষা চাষাবাদ করে আসছে।

তিনি বলেন, ‘লোকজন যখন বন পরিষ্কার করে বসতবাড়ি গড়ে তুলেছিল, তখন বন বিভাগ কিছুই বলেনি। এখন তারা আমাদের না জানিয়ে গাছ লাগাচ্ছে।’

ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন তার বাবার খাজনা দেওয়া জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন। কারণ সেই জায়গায় নিজে থেকেই গজিয়ে ওঠা আগ্রাসী প্রজাতির অনেক আকাশিয়া গাছ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে।

উত্তর জাঙ্গালিয়া ও গুবুদিয়ায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই কলা ও আনারস বাগানের মধ্যে দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন। এভাবে প্রাকৃতিক বন আদৌ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, এ নিয়ে জমির মালিকরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।

 

এভাবে প্রাকৃতিক শালবন ফিরিয়ে আনা যে সম্ভব নয় এমন কথা বলছেন সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলীও।

তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক কিছু গাছ লাগিয়ে সেখানে আবার আনারস চাষ করলে প্রাকৃতিক গাছ বিশেষ করে শাল বাঁচবে না। কারণ আনারস বাগান অত্যন্ত এসিডিক। তবে শালের চারা লাগানোর আগে বিশেষ কিছু উদ্ভিদ লাগিয়ে মাটি প্রস্তুত করে নিলে শালগাছ ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মধুপুর খুব স্পর্শকাতর জায়গা। এখানকার মূল সমস্যা সামাজিক ও রাজনৈতিক। এখানে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে কিছু করা যাবে না।’

বন বিভাগের বেপরোয়া মনোভাবের আরও একটি নজির হলো—গাছাবাড়ি বিটের সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন প্লটে দুজন অংশীদারকে শীত মৌসুমে হাজার হাজার চারা লাগাতে বাধ্য করা। এসব চারার অধিকাংশই লাগানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মারা গেছে।

এদিকে, অংশীজনরা আকাশিয়া গাছ কাটার পর তা থেকে তাদের প্রাপ্ত অর্থের পুরোটা এখনো পাননি। এতে মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের ১৪ কোটি টাকার তহবিল অপব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এসব এলাকায় সরেজমিনে দেখেছি—প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধারের নামে গাছের চারা বিশেষ করে শাল গাছের চারা যা লাগানো হয়েছে, তার অধিকাংশই মারা গেছে। যদিও প্রকল্প নির্দেশিকায় বলা আছে, এসব জায়গায় ৭০ শতাংশই শালের চারা থাকেব, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খুব কম সংখ্যক শালের চারা চোখে পড়ে। অন্যদিকে, যেখানেই সামাজিক বনায়ন, সেখানেই আকাশিয়া, আনারস, কলা, পেঁপে, হলুদ ও মসলা জাতীয় ফসলের আবাদ হচ্ছে ব্যাপক।

তবে, শালবন পুনরুদ্ধারের এটিই প্রথম চেষ্টা নয়। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা চলাকালীন তৎকালীন উপদেষ্টা সি এস করিমের নেতৃত্বে কয়েকশ একর জমিতে শালের চারা লাগানো হয়েছিল।

ওই সময় যৌথ বাহিনীর সহায়তায় বন বিভাগ প্রায় ৫ হাজার একর জমির কলা বাগান কেটে বনভূমি দখলমুক্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু বন বিভাগ শেষ পর্যন্ত বনের জমি পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়।

এটা এখনো বলার সময় আসেনি যে, আগের মতো এবারও শালবন পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। তবে এখন পর্যন্ত শালবন পুনরুদ্ধারের নামে যা যা হয়েছে, তাকে দুঃখজনক ও অভিনব বলা ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। ২০২৩ সালের পরে লাগানো আকাশিয়া গাছের কিছু চারা ধ্বংস করে বন বিভাগ যা করেছে, তা মূলত সাইনবোর্ড-সর্বস্ব প্রতীকী উদ্যোগ ও ফাঁকা প্রদর্শনী মাত্র।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—ভুল সময়ে তাড়াহুড়ো করে শাল গাছের চারা রোপণ। তারপরও যেখানে দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হয়েছে, সেখানে আনারস, কলা, পেঁপে ও মসলা জাতীয় ফসল চাষে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

মধুপুর শালবন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে। কিন্তু এই উদ্যোগকে সফল করতে হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরামর্শ গ্রহণ এবং আস্থার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

মধুপুর শালবন এলাকায় নানামুখী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ী, জমিতে কীটনাশক সরবরাহকারী এবং অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান, যারা বনভূমির জমির ব্যবহারের মধ্যদিয়ে প্রতিদিন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এসব স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কেউ প্রাকৃতিক বন ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

এমন অবস্থায় এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে একটি স্বাধীন আইনগত সংস্থা গঠন, যা একটি যৌথ কাঠামো প্রণয়ন করবে, অতীতের দাতাদের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করবে, কিন্তু তা আরেকটি আমলাতান্ত্রিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না।

বর্তমান অবস্থান থেকে মধুপুর শালবনকে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। কেবল সততা, দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ সীমিত হলেও ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। আমরা আশা করি, দেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পর গঠিত বর্তমান সরকার মধুপুর শালবনের প্রতি—যা সরকারি হিসেবে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বন—যথাযথ মনোযোগ দেবে।

ফিলিপ গাইন: গবেষক এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক