শ্রমিকদের আন্দোলন ‘বাজে অভিসন্ধি’, গণমাধ্যমের দিকেও অভিযোগের তীর সাকিবের

স্পোর্টস ডেস্ক

নিজের কাঁকড়া হ্যাচারির শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করতে দেখে বিস্মিত হয়েছেন সাকিব আল হাসান। প্রতিশ্রুতির পরও এমন আন্দোলনে বাজে অভিসন্ধি দেখছেন তিনি। এমনকি বকেয়া বেতন নিয়ে গণমাধ্যমে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সাকিব। সেইসঙ্গে কিছু শ্রমিকের জানুয়ারির মাসের বকেয়া বেতন ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নৈতিক কারণে  ক্রিকেটে নিষিদ্ধ এই ক্রিকেটার।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনীতে প্রায় চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে সোমবার বিক্ষোভ করেন সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেডের শ্রমিকরা। প্রায় ২০০ জন শ্রমিক জড়ো হয়ে একটি রাস্তা আটকে দেন।

খবরটি প্রকাশ হয় প্রায় সব গণমাধ্যমে। সাকিবের ব্যবসার অংশীদার সগির হোসেন পাভেল স্বীকার করেন, মন্দাভাব থাকায় ছাঁটাই হওয়া কিছু শ্রমিকের জানুয়ারি মাসের বেতন এখনও দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, সবাই চার মাসের বেতন পাবে এমন না। তবে জানুয়ারিতে ছাঁটাই হওয়া অনেকের বেতন বকেয়া আছে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, সাকিবের নির্দেশে সেই বেতন দ্রুত দিয়ে দেওয়া হবে।    

বুধবার সকালে নিজের ফেসবুক পাতায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সাকিবও দিয়েছেন প্রতিক্রিয়া। ব্যস্ততার কারণে তিনি হ্যাচারির সব খবর নিতে পারেন না বলেও জানান, ‘দেরিতে প্রতিক্রিয়া দেখানোয় প্রথমেই মাফ চেয়ে নিচ্ছি। কাঁকড়া হ্যাচারির সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমার পেশাদার ব্যস্ত সূচির কারণে আমার অন্য অনেক কোম্পানির মতো এই কোম্পানিও আমার অংশীদার পরিচালনা করেন। কোম্পানির প্রাত্যহিক কাজের খবর রাখা তাই আমার পক্ষে সম্ভব হয় না।’ 

সাকিব জানান, জানুয়ারির বকেয়া বেতন এপ্রিলের ৩০ তারিখের মধ্যে দিয়ে মিটিয়ে দেওয়া হবে, এমন প্রতিশ্রুতিতে রাজি হওয়ার পরও কিছু শ্রমিকের রাস্তায় নেমে আসাতে তিনি হতবাক, শ্রমিকদের এমন আচরণে বাজে অভিসন্ধিও দেখেন তিনি,  ‘হ্যাচারির আপডেট খবর জানতাম না, গণমাধ্যমেই তা জানতে পারি। আমার অংশীদার আমাকে যথাযথভাবে বিষয়টা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে যে গত কয়েকমাসে ওখানে কি হচ্ছে। কিছু শ্রমিক রাজি ছিল এপ্রিলের ৩০ তারিখের মধ্যে বেতন নেওয়ার জন্য (জানুয়ারির বেতন)। বাকি শ্রমিকদের জানুয়ারির শেষেই ছাঁটাই করা হয়েছে। এপ্রিলের ৩০ তারিখের মধ্যে বেতন নিতে রাজি হওয়া সত্ত্বেও আমরা বিস্ময়করভাবে দেখলাম তারা রাস্তায় বেরিয়ে বিশৃঙ্খলা করেছে, এটা তাদের বাজে অভিসন্ধি।’ 

শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনার পর বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে নিজের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকেই বেতন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সাকিব, ‘যাইহোক, আমি যখন দেখেছি এটা গুরুতর ব্যাপার। আমি সব দায়িত্ব নিয়ে সমাধান করে দিচ্ছি। তাদের পাওনা বেতন আমি আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে দিয়ে দিচ্ছি। যদিও ভেবেছিলাম এটা আমাদের কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিষয়। শ্রমিকরা এই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আন্দোলন করায় আমি হতভম্ব। এই সময়ে আমি সংকটে থাকা মানুষদের সহায়তার জন্য তহবিল করেছি। তাহলে কী করে ভাবা গেল আমি আমার কোম্পানির শ্রমিকদের বেতন দিব না, যাদের কিনা গত ৩ বছর থেকে নিয়মিত বেতন দিয়ে আসছি।’

পুরো ঘটনার খবর প্রকাশে গণমাধ্যমকেও দায়ী করেছেন নৈতিক কারণে গত বছরের অক্টোবর থেকে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ থাকা এই ক্রিকেটার, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে,আমার মনে হয় গণমাধ্যমের একটা অংশে ভালোভাবে খতিয়ে না দেখে, নিরপেক্ষভাবে খবরটা প্রচার হয়নি। আমার মনে হয় সত্যটা জানতে পারলে তারা চটকদার হেডলাইনে বিভ্রান্তিমূলক খবর প্রকাশ করত না।’